দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল

0
দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল

ঝুঁকিতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা ব্রিটিশ কাউন্সিলের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড (সিপিএফ) এ বছর দশ বছরে পা দিলো। এই উপলক্ষে বাংলাদেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্ত পেশাজীবীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

এসব কর্মশালার লক্ষ্য ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে শক্তিশালী একটি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, এসব কর্মশালার মাধ্যমে ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ উদ্যোগের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ভেতরে ও বাইরে ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের একত্র করা হবে। এতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড শুধু ঐতিহ্য সুরক্ষার নয়, মানবসম্পদে বিনিয়োগে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশজুড়ে নতুন পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং সাংস্কৃতিক সুরক্ষার ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়তা করছি।

ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডের সহায়তায় নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং মানুষের ইতিহাস, পরিচয় ও পারস্পরিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্য সংরক্ষণ।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কর্মসূচির আওতায় জাদুঘরের সব কর্মীকে সংগ্রহ সংরক্ষণ, ঐতিহ্য রক্ষা ও ওরাল ট্র্যাডিশন সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাদুঘরের সংগ্রহ থেকে কিউরেট করা ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী ‘২৫টি বস্তুতে বাংলাদেশের ইতিহাস’ প্রস্তুত করা হয়।

একই তহবিলের সহায়তায় পাকিস্তানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সিন্ধু বদ্বীপের সামুদ্রিক ঐতিহ্য ও হাজারা অঞ্চলের হস্তশিল্প। সংস্কার করা হচ্ছে সোয়াত উপত্যকার বৌদ্ধ নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের স্থাপনাগুলো। করাচির খালিকদিনা হলকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে।

নেপালে এই তহবিলের মাধ্যমে পুনর্জীবিত করা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় কুসুন্ডা ভাষা এবং নারীদের হাতে আঁকা মৈথিল দেয়ালচিত্র। পাশাপাশি সংরক্ষণ করা হচ্ছে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা আদিবাসী খাদ্য সংস্কৃতি। ব্রিটিশ কাউন্সিল বলছে, এসব কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগ পুনরুদ্ধার, সহনশীলতা ও নবজাগরণের শক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here