স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নজিরবিহীন।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাতউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে লাঠিসহ অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী আনসার সদস্য থাকবেন।
তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি রোলমডেল হয়ে থাকবে।
সে লক্ষ্যে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচনের বিশেষ দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বডিওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। এছাড়া প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও সহযোগী হিসেবে মাঠে থাকবেন। দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা বহাল থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েনের আওতায় ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিআইডির বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

