ঝিনাইদহে বিরল প্রজাতির হিমালয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার

0
ঝিনাইদহে বিরল প্রজাতির হিমালয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বিরল প্রজাতির একটি হিমালয়ান গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নাটিমা গ্রামে উড়ে এসে অসুস্থ অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায় পাখিটি।

স্থানীয়দের ধারণা, শকুনটির ডানা মেলে দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট হতে পারে, যা এর বিশালাকার গড়নের পরিচয় দেয়। পাখিটি দেখতে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। কেউ কেউ একে ‘অলৌকিক পাখি’ বলে নানা ব্যাখ্যা দিতে থাকেন, যা নিয়ে এলাকায় কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠের মধ্যে পড়ে থাকা শকুনটি প্রথমে দেখতে পান এবং পরে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গ্রামের অনেকেই শুরুতে পাখিটিকে চিনতে পারেননি। খবর পেয়ে প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী নাজমুল হোসেন বিষয়টি দ্রুত মহেশপুর বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শকুনটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরদিন বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে শকুনটির চিকিৎসা শুরু হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, শকুনটির চিকিৎসা চলছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সুস্থ হলে মহেশপুর এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশেই পাখিটিকে অবমুক্ত করা হবে। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হবে।

প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে হিমালয় অঞ্চলে তীব্র শীতের কারণে এ প্রজাতির শকুন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিচরণ করে। খাবারের সংকটে দুর্বল হয়ে পড়ায় শকুনটি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে এটি মাংস খাচ্ছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হিমালয়ান গৃধিনী শকুন বাংলাদেশে খুবই বিরল। এ প্রজাতির শকুন সাধারণত সাদা মাথা ও ঘাড়, গাঢ় বাদামি দেহ এবং ৮ থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত ডানা বিস্তারের জন্য পরিচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here