চ্যাটজিপিটিচালিত নির্দিষ্ট এক অনুবাদের টুল চালু করেছে অ্যাপটির নির্মাতা ওপেনএআই। এতদিন ধরে অনুবাদের জন্য মূল চ্যাটবটটিই ব্যবহার করে আসছিলেন ব্যবহারকারীরা। এখন আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করল কোম্পানিটি।
‘চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট’ নামে এক আলাদা সাইট চালু করেছে ওপেনএআই। ওপেনএআইয়ের দাবি, টুলটি কেবল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে টেক্সট, ভয়েস বা কণ্ঠস্বর ও ছবি থেকে ৫০টিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষা শনাক্তের সুবিধাও রয়েছ
‘চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট’ অনুবাদের আউটপুটটিকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও টোন বা মেজাজ অনুসারে নতুন করে লিখতে পারে, ঠিক যেমনটি সাধারণ বিভিন্ন টেক্সট-জেনারেটিং এআই টুল করে থাকে বিষয়টি তেমনই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
কেবল একটি ট্যাপের মাধ্যমেই অনুবাদকে ‘আরও সাবলীল’, কোনো ব্যবসায়িক পরিবেশের উপযোগী বা বিষয়টিকে শিশুবান্ধব ও একাডেমিক রূপ দিতে পারে এই নতুন টুল। নিজেদের ওয়েবপেইজে ওপেনএআই বলেছে, ‘ভাষার টোন বা আবেগ, বাগধারা ও প্রেক্ষাপট খুব নিখুঁতভাবে বুঝতে পারে’ চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট।
টোন বা আবেগ ও প্রসঙ্গের বিষয়টি বেশ চমৎকার হলেও গুগল ট্রান্সলেটের তুলনায় এখনও কিছুটা অপূর্ণ ‘চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট’। কয়েক দশক ধরে রাজত্ব করছে গুগল ট্রান্সলেট। সম্প্রতি কোম্পানিটির নিজস্ব এআই চ্যাটবট জেমিনাই প্রযুক্তি যোগ করেছে এতে, যা বাগধারা ও চলতি ভাষা বুঝতে এখন পারদর্শী।
অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি প্রতিবেদনে লিখেছে, চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেটের মোবাইল সংস্করণে ভয়েস ইনপুট দেওয়া গেলেও ডেক্সটপ বা কম্পিউটার সংস্করণে এখনও সেই সুবিধা নেই। এছাড়া, ছবির ভেতরের লেখা অনুবাদের দাবি করা হলেও বর্তমানে টুলটিতে ছবি আপলোডের কোনো অপশন মেলেনি। ওয়েবসাইট, বড় ডকুমেন্ট বা হাতের লেখা অনুবাদের সুবিধাও এতে এখনও যোগ করেনি ওপেনএআই।
বর্তমানে কেবল ওয়েবপেইজ হিসেবেই আছে চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট। এজন্য আলাদা কোনো অ্যাপ নেই। ফলে চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট ‘অফলাইন’-এ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অনডিভাইস বা অফলাইন অনুবাদের সুবিধা না থাকায়, গ্রামীণ বা ইন্টারনেট নেই এমন এলাকায় ভ্রমণকারীদের জন্য খুব একটা কাজে আসবে না।
এছাড়া, এতে রিয়াল-টাইম বা সরাসরি কথোপকথন অনুবাদের সুবিধাও যোগ করেনি ওপেনএআই। অন্যদিকে, গুগলের পিক্সেল ১০ ফোনে এখন সরাসরি কল চলাকালীন ভয়েস অনুবাদের সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট কবে বাজারে চালু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কারণ এ নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা দেয়নি ওপেনএআই। ‘ইন্টারনেট আর্কাইভের ওয়েব্যাক মেশিন’-এ গেল বছরের নভেম্বরে এক স্ন্যাপশটে এটি দেখা গেছে, যা দেখতে বর্তমান পেইজটির মতোই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হয়ত ওপেনএআইয়ের কোনো লাইভ টেস্টিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হয়ে থাকতে পারে।

