তরুণ পেশাজীবীদের কাজে সাইড জব প্রভাব ফেলছে কী?

0
তরুণ পেশাজীবীদের কাজে সাইড জব প্রভাব ফেলছে কী?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে সাইড হাস্টল বা সাইড জবের প্রবণতা। মূলত চাকরিতে বেতন স্থবিরতা, জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া, পেশা ও সাফলতা সম্পর্কে নিত্য নতুন ধ্যান-ধারণা…, এসব কারণগুলো সাইড হাস্টলের পেছনে কাজ করছে। 

এইচআর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, সাইড হাস্টল এখন অনেকের মূল চাকরিতে প্রভাব ফেলছে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জেন-জি কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মিলেনিয়ালদের প্রায় অর্ধেকেরই সাইড হাস্টল রয়েছে। এর কারণ শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয় বরং অধিক স্বাধীনতা, একাধিক আয়ের উৎস তৈরি করার ইচ্ছাগুলো কাজ করছে।

২০২৪ সালের গ্লাসডোর–হ্যারিস জরিপে দেখা গেছে, মোট কর্মীদের ৩৯ শতাংশ অতিরিক্ত আয়ের জন্য সাইড হাস্টল করছে। জেন জি-দের মধ্যে এই হার ৫৭ শতাংশ এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ। দুবাইয়ে চাকরিতে বেতন না বাড়া, বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে আরও ত্বরান্বিত করছে এই প্রবণতাকে।

বার্নআউট এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ
ম্যাগনিটিউড ক্রিয়েটিভ-এর এইচআর প্রধান জেসি জয় মনে করেছে, বিভিন্ন কারণে অনেক কর্মী একটিমাত্র চাকরি যথেষ্ট মনে করছে না। মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, পড়াশোনা বা পারিবারিক খরচ সামলাতে সাইড হাস্টল অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, জেন জি-দের অনেকেই পড়াশোনার সময় পার্ট-টাইম কাজ শুরু করে এবং ফুল-টাইম চাকরি পাওয়ার পরও তা চালিয়ে যায়। এতে তারা বাড়তি আয় ও নিরাপত্তা অনুভব করে। তবে এর নেতিবাচক দিকও আছে। একসাথে একাধিক কাজ সামলাতে গিয়ে কর্মীরা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে দেরিতে অফিসে আসা, আগে চলে যাওয়া, হঠাৎ ছুটি নেওয়া বা ক্লান্ত ও অমনোযোগী হয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে কর্মীদের কাজের আগ্রহ, দায়িত্ববোধ ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মক্ষমতা কমে যায়- কারণ তারা উদাসীন নয় বরং অতিরিক্ত কাজের চাপ।

ক্যারিয়ার কোচ হেমন্ত জৈন মনে করেন, চাকরি হারালে সাইড হাস্টলকে বিকল্প নিরাপত্তা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে জেন জি-রা এটিকে কম ঝুঁকির পরীক্ষা হিসেবে নেয়—নিজেরা কী পছন্দ করে বা ভবিষ্যতে কী করতে চায় তা বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে এই সাইড হাস্টলগুলো ধারণার চেয়ে বেশি সময় ও শক্তি নিয়ে নেয়, যার ফলে মূল চাকরিতে মনোযোগ ও দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। কারণ বেশিরভাগ সময় কর্মীরা তাদের সাইড হাস্টলের কথা প্রকাশ করে না। ফলে নিয়োগ কর্তারা সমস্যার আসল কারণ বুঝতে পারে না।

আর্থিক চাপ ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন
অনেক তরুণ পেশাজীবীর কাছে সাইড হাসল (অতিরিক্ত কাজ) এখন শুধু অতিরিক্ত আয়ের বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও নতুন দক্ষতা অর্জনের উপায়ও। 
২৪ বছর বয়সী সিরিয়ান প্রবাসী আইশা হাদ্দাদ বলেন, ‘আমার বয়সী অনেকের মতো আমিও সাইড হাসল শুরু করেছি শুধু বেশি টাকা আয়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করার জন্য। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সুযোগ আছে কিন্তু দায়িত্বও আছে। আমার ফ্রিল্যান্স কাজের মাধ্যমে আমি দেশে থাকা পরিবারকে সাহায্য করতে পারি এবং এমন দক্ষতা শিখতে পারি যা শুধু ফুল-টাইম চাকরি থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।’

২২ বছর বয়সী ফ্যাশন মার্কেটার তেজস্বী সন্দীপ গুর্জার জানান, জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়াই হলো এটির বড় কারণ। তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়া আর বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়া সত্যিই চাপ সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সামাল দিতে এই প্রজন্মের অনেকেই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। আমিও করি। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে এতে লাভ পাওয়া যায় এবং খরচ মেটাতে সাহায্য করে।’

এছাড়া ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন। সন্দীপ গুর্জার আরও জানান, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জুনিয়র এখন কোন পেশাটা বেছে নেবে সেটা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায়। তাদের কেউ কেউ মনে করছে, যেকোনো সময় মানুষের কাজ ছিনিয়ে নিতে পারে ‘এআই’ আর হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রচলিত পেশাও।’ এসব অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় অনেক তরুণ পেশাজীবী একসঙ্গে দুই-তিনটি কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। সূত্র: খালিজ টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here