গত এক বছরে ২৫ লাখের বেশি মানুষকে বিতাড়িত করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, অন্তত ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার তথা নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের হিসাব।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ১৯ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ভলান্টারি সেলফ-ডিপোর্টেশন’। এছাড়া গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তাদের বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল হওয়া ব্যক্তি এবং বিভিন্ন স্টুডেন্ট ও উচ্চদক্ষ কর্মী ভিসা কর্মসূচির আওতায় থাকা অভিবাসীরা। আল জাজিরা।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অন্তত ৬৬ হাজার ৮৮৬ জনকে আটক করেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন দেশজুড়ে প্রায় ৮২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, সবশেষ গত সপ্তাহে অভিবাসন বিষয়ে নতুন করে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মিনিয়াপলিসে বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনা। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে নর্থ ক্যারোলিনা ও ওহিও পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিনিয়াপলিসে বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে জোরালো। গত ৭ জানুয়ারি আইসিইর এক অভিযানের সময় রেনি গুডকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে এক এজেন্টদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মিনিয়াপলিসে রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। যা পরবর্তী কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন। মঙ্গলবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা স্লোগান দেন, ‘আইসিই সন্ত্রাস বন্ধ কর’।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন অমানবিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই আন্দোলনে ইনডিভিবল ও ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী সংগঠন, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তারা টেক্সাসের এল পাসোসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর নাজুক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সকালে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে পশ্চিমাঞ্চলের শহর সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার করে তারা ভোটারদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। তবে দেশজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

