হাঙরের ঘন ঘন আক্রমণ: সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বহু সৈকত বন্ধ

0
হাঙরের ঘন ঘন আক্রমণ: সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বহু সৈকত বন্ধ

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় চারবার হাঙরের আক্রমণের ঘটনার পর সিডনিসহ ওই উপকূলের কয়েক ডজন সমুদ্র সৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সার্ফার ও সাঁতারুরা এসব আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এবং ভারি বৃষ্টিতে ঘোলা হয়ে যাওয়া পানি প্রাণিগুলোকে তীরের দিকে আরও আকর্ষিত করতে পারে এমন বিবেচনায় মঙ্গলবার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। সিডনির ‘নর্দান বিচ’ এলাকার সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উপকূলজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং হাঙর শনাক্ত করতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

সবশেষ হামলাটি ঘটে মঙ্গলবার পোর্ট ম্যাকুয়ারির কাছে পয়েন্ট প্লোমারে। সিডনি থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ওই এলাকায় ৩৯ বছর বয়সী এক সার্ফার শার্কের কামড়ে আহত হন বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি গুরুতরভাবে আহত হননি।

৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে গত সোম ও রোববার সিডনি ও তার আশপাশে হাঙরের আরও তিনটি আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির ম্যানলি বিচে এক তরুণ সার্ফারকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে হাঙর।

ম্যাক্স হোয়াইট নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই তরুণের পা থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে অন্য এক সার্ফার তার সার্ফবোর্ডের দড়ি দিয়ে সাময়িকভাবে পা বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই তরুণ এখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

একইদিন ডি হোয়াই বিচে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সার্ফবোর্ড থেকে ফেলে দেয় একটি হাঙর। শিশুটি অক্ষত থাকলেও হাঙরটি তার সার্ফবোর্ডের বড় একটি অংশ কামড়ে ছিঁড়ে নেয়।

এর আগে রবিবার বিকেলে সিডনি হারবারে সাঁতার কাটার সময় ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়।

সার্ফ লাইফ সেভিং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী স্টিভেন পিয়ার্স সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কেউ সাঁতার কাটার কথা ভাবেন, তাহলে আপাতত স্থানীয় সুইমিং পুলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এই মুহূর্তে সৈকতগুলো নিরাপদ নয়।”

গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে এনএসডব্লিউয়ের সৈকতগুলোতে ভিড় বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত হাঙরের হামলার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

হাঙর বিশেষজ্ঞ ক্রিস পেপিন-নেফ জানান, ঘোলাটে পানির কারণে হাঙর সামনে থাকা কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে পায় না। কৌতূহল বা আত্মরক্ষার তাগিদে তারা তখন কামড়ে দেয়। বৃষ্টির কারণে উপকূলের পানিতে আবর্জনা ও খাবারের উৎস বেড়ে যাওয়ায় হাঙররা তীরের কাছাকাছি চলে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here