শীত মানেই খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। আর সেই রস থেকেই তৈরি হয় ঘ্রাণে ও স্বাদে অতুলনীয় খেজুরের গুড়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এখন সুস্বাদু খেজুর গুড় তৈরির ধুম পড়েছে। গাছিরা এখন সুস্বাদু খেজুর তৈরী করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। স্বাদে অতুলনীয় আর গুনে মানে ভাল হওয়ায় এসব গুড় স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে।
খেজুর গুড় তৈরী কারিগর তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাসির উদ্দিন জানান, তাড়াশের রাস্তার ধারে ও পুকুরপাড়ে শত শত খেজুর গাছ রয়েছে। শীতের আগেই গাছ মালিকদের কাছ থেকে খেজুর গাছগুলো তারা লিজ নিয়ে নেন। এরপর শীত শুরুর কিছুদিন আগ থেকে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শীত শুরু হলেও প্রতিটি গাছে ঝোলানো হয় কলস। প্রতিদিন ভোর থেকে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এরপর সেই রস জাল করে সুস্বাধু গুড় তৈরী করে থাকেন।
তারা আরও জানান, রস জাল হবার পর বিভিন্ন শেপে গুড়গুলোর ডিজাইন তৈরী করা হয়। এছাড়াও কলসীর ভিতর রেখে দানাদার খেজুর গুড়ে তৈরী করা হয়ে থাকে।
গাছি খাইরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সুস্বাদু খেজুরের গুড় দেড়শ থেকে ৩শ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। খেজুরের গুড় সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়রাও কিনে নেন। পাশাপাশি জেলার বাইরের পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তার হোসেন জানান, খেজুরের গুড় ও রস দিয়ে তৈরী পায়েস, পিঠা সুস্বাসু হওয়ায় দিন দিন খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়াও ভোরে গ্লাস ভর্তি করে খেজুরের রস বিক্রি করা হয়। খেজুর রস আর মুড়ি দিয়ে খেলেও সকালে খুব সুস্বাদু লাগে। সরকারিভাবে আরও গাছ লাগানো হলে গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, নিরাপদ রস ও গুড় তৈরীতে গাছিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। যেমন রস সংগ্রহের সময় কলসের মাথা ঢেকে রাখাসহ গুড় তৈরী করার সময় যেন চিনি বা অন্যান্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় এসব পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও জেলায় খেজুর গাছ বৃদ্ধির জন্য আরও চারা রোপনের পরিকল্পনা হচ্ছে।

