ইংল্যান্ড দলের ওপর ‘মিডনাইট কারফিউ’

0
ইংল্যান্ড দলের ওপর ‘মিডনাইট কারফিউ’

অ্যাশেজে ভরাডুবির পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরে তাদের আচরণও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। সিরিজ চলাকালীন এবং এর আগের নিউজিল্যান্ড সফরে খেলোয়াড়দের মদ্যপানের অভিযোগ উঠায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হলো।শৃঙ্খলাজনিত একাধিক ঘটনার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের ওপর ‘মিডনাইট কারফিউ’ বা মধ্যরাতের কারফিউ আরোপ করা হচ্ছে। 

ডেইলি মেইল স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  অ্যাশেজ সিরিজ এবং তার আগে নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রিকেটারদের অসংযমী আচারণের কারণে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন দুইটি সাদা বলের সিরিজ এবং আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আচরণের আনুষ্ঠানিক কোনো নিয়মাবলী ঘোষণা করা না হলেও, কলম্বোয় পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হিসেবে দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে। মধ্যরাতের কারফিউ অনুযায়ী যদি আগে অনুমতি না নেওয়া থাকে তবে প্রতি রাতেই ১২টার আগে দলের হোটেলে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ঠিক রাখা। 

সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড দলের একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা বোর্ডকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে ৩–০ হোয়াইটওয়াশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে ৪–১ ব্যবধানে হার—এই দুই সফরেই অতিরিক্ত মদ্যপান ও রাতভর বাইরে থাকার অভিযোগ ওঠে।

অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ চলাকালে নুসায় ছয় দিনের বিরতিতে কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বেন ডাকেট গভীর রাতে বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। পাশাপাশি পার্থে অবস্থানকালে ইংল্যান্ড খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার মদ্যপানের খবরও প্রকাশ পায়।

এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে নাইটক্লাবের এক বাউন্সারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর ঘটনায় অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়। এমনকি সাদা বলের অধিনায়কত্ব হারানোরও ঝুঁকিতে পড়েছিলেন তিনি। যদিও ব্রুক নিজেই বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটে কারফিউ নতুন নয়। ২০১৭–১৮ মৌসুমে জনি বেয়ারস্টোর এক বিতর্কিত ঘটনায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস এই নিয়ম চালু করেছিলেন। তবে পরে বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা বিবেচনা করে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই সিদ্ধান্ত যে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, তা মানছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহল।

ফলাফলের দিক থেকেও চাপের মধ্যে রয়েছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও মাঠের পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্যেই এই কড়াকড়ি। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা সফর ও বিশ্বকাপের জন্য কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। টি–টোয়েন্টি দলে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ফিরছেন কার্ল হপকিনসন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে একাই ১৭টি ক্যাচ পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ইংল্যান্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here