জার্মান চাকরিজীবী নাগরিকদের কাজের মানসিকতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।
স্থবির হয়ে পড়া জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরিবর্তে কেন কর্মীরা বছরে গড়ে ‘প্রায় তিন সপ্তাহ’ অসুস্থতার ছুটি নিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বাডেন-ভুর্টেমবার্গে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জার্মানির চ্যান্সেলর করোনা মহামারির সময় চালু হওয়া ‘টেলিফোনে সিক নোট’ (ফোনে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটি নেওয়া) ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আজকের দিনেও কি এর কোনও যৌক্তিকতা আছে?”
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডার স্পিগেল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী চ্যান্সেলর মের্জ প্রশ্ন করেন, “এটি কি আসলেই সঠিক? এটি কি আসলেই প্রয়োজনীয়?”
তিনি ২০২৪ সালের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, জার্মানিতে কর্মী প্রতি গড়ে ১৪.৫ দিন অসুস্থতার ছুটি নিয়েছেন, যার অর্থ হলো ‘বছরে প্রায় তিন সপ্তাহ জার্মানির মানুষ অসুস্থতার কারণে কাজ করছেন না।
চ্যান্সেলর বলেন, দিনশেষে, বর্তমানের তুলনায় উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মের্জ দীর্ঘদিন থেকেই জার্মানদের দীর্ঘ সময় ও কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এর আগে এক বাণিজ্য সভায় তিনি বলেছিলেন, ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ দিয়ে আমাদের দেশ বর্তমানে যে সমৃদ্ধি ভোগ করছে তা ভবিষ্যতে ধরে রাখা সম্ভব নয়- আর একারণেই আমাদের বেশি কাজ করতে হবে।
২০২২ সালে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেওয়ার ফলে জার্মান অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ইউক্রেন সংঘাত শুরুর আগে জার্মানি তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫৫ শতাংশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, রুশ তেল সংস্থা রজনেফট-এর কার্যক্রম জার্মানির মোট তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ১২ শতাংশ ছিল।
রাশিয়া থেকে সস্তায় জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জার্মানির অর্থনীতিকে ধীরগতির করে দিয়েছে। যার ফলে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে- যা ২০০০-এর দশকের শুরুর পর এই প্রথম টানা দুই বছর অর্থনৈতিক পতনের ঘটনা। ‘বিল্ড’ পত্রিকার অক্টোবর মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জার্মানিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম যথাক্রমে ১৪ শতাংশ এবং ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত আগস্টে চ্যান্সেলর মের্জ বলেছিলেন, “আমাদের দেশ বর্তমানে যে ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থায় আছে, তা সামলানোর সামর্থ্য আমাদের আর নেই।”
তবে এই প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও মের্জ রাশিয়ার কথিত হুমকির কথা উল্লেখ করে দেশের সামরিকীকরণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। গত মে মাসে চ্যান্সেলর অঙ্গীকার করেন যে, তিনি জার্মান বাহিনীকে ‘ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথাগত সেনাবাহিনীতে’ রূপান্তর করবেন। সূত্র: আরটি

