রাশিয়ার বিমানবাহিনী তাদের বোমারু বিমান বহরের জন্য অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল এবং হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এক নতুন ভান্ডার নিয়ে হাজির হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রুশ অ্যারোস্পেস ফোর্সেস (ভিকেএস) তিনটি নতুন ধরনের আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের ময়দানে মোতায়েন ও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই নতুন সমরাস্ত্রগুলো রাশিয়ার কৌশলগত সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কেএইচ-বিডি-কে ক্ষেপণাস্ত্রটি ডিজাইন করা হয়েছে পুরনো টু-৯৫ এমএসএম বা ‘বিয়ার’ বোমারু বিমানের জন্য। এটি অনেকটা খ-১০১ মিসাইলের মতো হলেও এর প্রধান বিশেষত্ব হলো অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা। মাত্র ৩০ থেকে ৭০ মিটার উচ্চতায় এটি উড়তে পারে বলে রাডার ফাঁকি দেওয়া এবং পৃথিবীর বক্রতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মগোপন করা এর জন্য সহজ হবে। প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, কেএইচ-বিডি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একটি শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে যা টু-৯৫ এমএসএম এবং টু-১৬০এম বোমারু বিমানে ব্যবহৃত হবে। ৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৬,৬০০ কিলোমিটার, যা একে হাইপারসোনিক অস্ত্রের তালিকায় স্থান দিয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সাথে দুটি ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
এর পাশাপাশি রাশিয়ার নৌ-বাহিনীর শক্তি বাড়াতে আসছে কেএইচ-এমসি নামক একটি সুপারসোনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এটি মূলত পুরনো কেএইচ-২২ মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে। এটির পাল্লা ক্ষেত্রবিশেষে ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে অতীতে রুশ অস্ত্রে পশ্চিমা ও চীনা যন্ত্রাংশের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় এই দাবি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
এই নতুন মারণাস্ত্রগুলো বহন করার জন্য রাশিয়া তাদের পুরনো বোমারু বিমান বহরকে আধুনিকায়ন করছে। টু-৯৫ এবং টু-১৬০ এর মতো বিমানগুলোকে নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হচ্ছে।

