মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের ফাঁড়া কোনোভাবেই কাটছে না। এই টেক টাইকুনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে এবার যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরির অভিযোগে মামলা করেছেন তার এক সন্তানের মা অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার।
নিউইয়র্কের একটি আদালতে দায়ের করা এই মামলায় ২৭ বছর বয়সী লেখিকা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ সেন্ট ক্লেয়ার অভিযোগ করেছেন, মাস্কের চ্যাটবট গ্ৰোক ব্যবহার করে তার আপত্তিকর এবং বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে। এতে তিনি যা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই চ্যাটবটটির মাধ্যমে তার শৈশবের একটি সাধারণ ছবিকে বিকৃত করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার বিভিন্ন ছবিতেও আপত্তিকর চিহ্ন ও ভঙ্গিমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সেন্ট ক্লেয়ার এই বিষয়টি নিয়ে আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। শুরুতে সংস্থাটি দাবি করেছিল, এই ছবিগুলো তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে না। পরবর্তীতে তারা ছবিগুলো সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তার অ্যাকাউন্টের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ও ভেরিফিকেশন মার্ক সরিয়ে দিয়ে এক ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সেন্ট ক্লেয়ার অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে ১০ লাখ অনুসারী থাকা এই নারী দাবি করেছেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে এক্সএআই এই অভিযোগগুলোকে সরাসরি অস্বীকার করে একে সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা এখন থেকে গ্ৰোক চ্যাটবটে এমন কিছু পরিবর্তন আনছে যাতে কোনো বাস্তব ব্যক্তির অনুমতিহীন এবং আপত্তিকর ছবি তৈরি করা না যায়।
তবে এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো গ্ৰোকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে মাস্কের কোম্পানিটি সেন্ট ক্লেয়ারের বিরুদ্ধে টেক্সাসের আদালতে পাল্টা মামলা করেছে। তাদের দাবি, সেন্ট ক্লেয়ার ব্যবহারের শর্তাবলি লঙ্ঘন করে ভুল স্থানে মামলা দায়ের করেছেন।
সূত্র: এপি

