সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, একাত্তরে দেশ স্বাধীন হলেও তার প্রকৃত সুফল পাওয়া যায়নি। দেশে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখাও বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা করতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হবে। যে লক্ষ্য নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন এবং জুলাইয়ের যোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য যেন ব্যর্থ না হয়—এ দায়িত্ব সবার।
শনিবার দুপুরে আরডিআরএস বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করা এবং পরবর্তীতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা যথাযথভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু অঙ্গীকারের ভিত্তিতে দায়িত্ব নিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর অগ্রাধিকার পেয়েছে নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। এই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার বিষয়ে সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে।
সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। তবে শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা মাত্র। গণতন্ত্রের উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য প্রয়োজন সংস্কার। আইন সংস্কার, নির্বাচন অঙ্গন পরিষ্কার করা, রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করা, টাকার খেলা বন্ধ করা এবং নাগরিক ও গণমাধ্যমকে তাদের ওয়াচডগ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারকে হতে হবে নিরপেক্ষ, যাতে ভোটের মাঠ সবার জন্য সমতল থাকে।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশনের কার্যক্রম পুরোপুরি সন্তোষজনক না হলেও নির্বাচনে এমন একটি সরকার রয়েছে, যারা কোনো দলের পক্ষপাতদুষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনও কোনো সরকার দ্বারা নির্বাচিত হয়নি। তাই আশা করা যায়, তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। বাকি দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই পালন করতে হবে।

