উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস; স্ত্রী ডাকে প্যাঁকপ্যাঁক, বাঁশির সুরে পুরুষ

0
উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস; স্ত্রী ডাকে প্যাঁকপ্যাঁক, বাঁশির সুরে পুরুষ

উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের এক সময় অবাধ বিচরণ থাকলেও এটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।  আগের মত চোখে পড়ে না এটি। শিকারী প্রাণী, পরজীবী ও বিভিন্ন রোগজীবাণুর কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষিকাজ, শিকার, মৎস্যনিধন, বাসস্থান সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমছে তবে এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি। সেকারণে এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস সম্পর্কে জানাগেছে, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস (বৈজ্ঞানিক নাম: Anas acuta), কালদিঘেড়ি বা লেঞ্জাহাঁস নামও পরিচিত এটি। স্ত্রী হাঁস ডাকে প্যাঁক-প্যাঁক করে। অপরদিকে পুরুষ হাঁসের ডাক বাঁশির শিষের মত। ফলে সহজেই নারী- পুরুষের পার্থক্য বুঝা যায। উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বড় আকারের হাঁস। স্ত্রী-পুরুষ দুই হাঁসেরই নীলচে-ধূসর ঠোঁট এবং ধূসর পা ও পায়ের পাতা থাকে। পুরুষ হাঁস দেখতে চমৎকার, চকলেট রঙা মাথার পেছন থেকে একটি সরু সাদা রেখা ঘাড় হয়ে সাদা দেহতল পর্যন্ত নেমে গিয়েছে। এছাড়া পিঠ দর্শনীয় ধূসর, বাদামি ও কালো রঙে চিত্রিত থাকে। স্ত্রী হাঁসের দেহে রঙের বৈচিত্র্য কম। দেহ অন্যান্য স্ত্রী হাঁসের মত মেটে রঙের।
 
উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস বিস্তৃত খোলা জলাশয় বা জলাভ‚মিতে বসবাস করে। সাধারণত পানি থেকে কিছু দূরে মাটিতে বাসা করে। পানিতে ভাসমান উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য। তবে প্রজনন মৌসুমে ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণীও খায়। অপ্রজননকালীন সময়ে এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, দলে অন্য প্রজাতির হাঁসও ঘুরে বেড়ায়। উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের কোন উপপ্রজাতি নেই।

সম্প্রতি উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের ছবিটি রংপুরের তিস্তা নদী থেকে তুলেছেন ওয়াল্ড লাইভ ফটোগ্রাফার, বিশিষ্ট কবি ও লেখক রানা মাসুদ। হাঁসটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস/ কালদিঘেড়ি সুদূর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চল থেকে আসে এরা। এশিয়ার কিছু অঞ্চলেও পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে ততটা সুলভ নয় এটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here