প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেছেন, দেশে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও গণভোট যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে ফ্যাসিবাদ দ্রুততম সময়ে আবার ফিরে আসবে। কারণ একবার কোনো পথ কেউ চিনে গেলে, দ্বিতীয়বার সেখানে যেতে সময় অনেক কম লাগে।
শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায়’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
মনির হায়দার বলেন, গণভোট ২০২৬-এর মধ্য দিয়ে কতটি প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও মূলত একটি প্রশ্নেরই নিষ্পত্তি হবে। আর তা হলো, আমরা কি ফ্যাসিবাদ আবার চাই, নাকি চাই না? জাস্ট এটা নিষ্পত্তি হবে।
তিনি বলেন, অনেকে বলছেন ৪টি প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে। মূলত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ ৮৪টি সুপারিশ আছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত, যা বাস্তবায়ন আদেশে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানগত দিক দিয়ে সব সংখ্যা সঠিক হলেও গণভোটে মূলত একটি মৌলিক প্রশ্নেরই ফয়সালা হবে। আর সেটি হলো, ফ্যাসিবাদ ফিরবে কি না।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে যদি এই গণভোট ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে? এর উত্তর খুব সিম্পল। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে, আসবেই এবং দ্রুততম সময়ে আসবে। বাংলাদেশে প্রথমবার ফ্যাসিবাদ আসতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু বাই দিস টাইম ফ্যাসিবাদ রাস্তাঘাট সব চিনে গেছে। তাই পরেরবার আসতে তারা সময় নিবে না।
মনির হায়দার বলেন, কারও কারও হয়তো পরাজিত ফ্যাসিবাদের প্রতি অনুরাগ থাকতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা আমাদের উত্তর প্রজন্মের কথা চিন্তা করে তাদের কোথায় রেখে যাব? আমরা কি চাইব আমাদের সন্তান কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করে জীবন কাটাক? নাকি এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ রেখে যাব যেখানে আইনের শাসন ও মানুষের মর্যাদা থাকবে? উন্নত বিশ্বের মতো আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে সিস্টেম সবাইকে রক্ষা করবে?
আসন্ন গণভোট ও সংস্কার নিয়ে অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চলছে। বলা হচ্ছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে এটা থাকবে না, ওটা থাকবে না। এগুলো নির্জলা মিথ্যা। আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রচার নয়, বরং মানুষের কাছে সঠিক তথ্যটা পৌঁছে দেওয়া। আপনারা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন, তাদের এই বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।
সূত্র : বাসস

