নীল নদের পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই প্রস্তাব দেন। পরে চিঠিটির বিষয়বস্তু নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীল নদের পানি বণ্টন সংক্রান্ত ইস্যুটি সম্পূর্ণভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সমাধান করতে মার্কিন মধ্যস্থতা পুনরায় শুরু করতে আমি প্রস্তুত।’
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া তাদের বহু আলোচিত ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’ (জিইআরডি) চালু করার পর থেকেই কায়রোর সঙ্গে আদ্দিস আবাবার উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নীল নদের ভাটিতে অবস্থিত এই বাঁধটি মিশরের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১২ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া নীল নদের একটি শাখানদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে মিশরের দাবি, আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দেশটিতে খরা কিংবা আকস্মিক বন্যার মতো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কায়রো। তবে ইথিওপিয়া বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প অতীতেও মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসির প্রশংসা করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে গাজা সংকট সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মিশর সফরে গেলে দুই নেতার ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্য বক্তব্যেও নীল নদের পানি বণ্টন ইস্যুতে মিশরের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: রয়ার্টাস

