রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক রবিউল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ পুলিশ চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
আসামিরা হলো- নগরীর হাজীরহাট এলাকার আফসার আলীর ছেলে মিঠু মিয়া (৩০), উত্তম মাস্টারপাড়া গ্রামের হামিজ উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন আবির (২০), গাইবান্ধা ডেভিড কোম্পানীপাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে নাসির মিয়া (৪৫) ও চক মমরোজপুর গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে লেবু মিয়া (৪০)। শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফাত হুসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায় ,গত ১৭ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের গিড়িয়াপাড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে রবিউল ইসলামের (২৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিউল নগরীর কেরানীরহাট বখতিয়ারপুর এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করাসহ অটোরিক্সা চালাতেন। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হলে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ। গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারী বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানায়, ১৬ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে পলাতক আসামি পারভেজ মিয়াসহ অজ্ঞাতরা অটোরিক্সা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রবিউল ইসলামকে হত্যা করে গঙ্গাচড়ার গিড়িয়াপাড়ার একটি কালভার্টের নিচে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর তারা ওই অটোরিক্সাটি গাইবান্ধা সদর এলাকায় নিয়ে গিয়ে আসামি লেবু মিয়ার সহায়তায় অপর আসামি নাসির মিয়ার কাছে বিক্রি করে। পুলিশ ১৪ জানুয়ারী নগরীর বিসিক মোড় থেকে মিঠু মিয়াকে গ্রেফতার করে। এরপর তার দেয়া তথ্য মতে ইসমাইল হোসেন আবিরকে ওই রাতে নগরীর হাসনা বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারী মামলার অপর আসামি নাসির মিয়াকে গাইবান্ধার ডেভিড কোম্পানী পাড়া থেকে এবং নাসিরের দেয়া তথ্য মতে লেবু মিয়াকে গাইবান্ধা সদর ডাচ বেকারীর মোড় থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সাথে অটোরিক্সাটি উদ্ধারসহ মামলার নানা আলামত জব্দ করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন, রবিউল ইসলাম হত্যাকান্ডটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস। পুলিশ আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দিনরাত পরিশ্রম করে ৪ আসামীকে গ্রেফতারসহ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে আসামিদের আদালতে নেয়া হলে বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

