জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তেহরানকে সমর্থন চীন-রাশিয়ার

0
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তেহরানকে সমর্থন চীন-রাশিয়ার

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে জাতিসংঘের ডাকা নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তেহরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে পাকিস্তান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছে, তারা দ্রুত ইরানের পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন। সেই সাথে জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিন্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ ইরানকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বন্ধন রয়েছে। তিনি তেহরানের নেতৃত্ব এবং জনগণ উপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন।

এসময় জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, বিশ্ববাসী ইরানের চারপাশে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পষ্ট আগ্রাসন এবং হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

শক্তি প্রয়োগ কখনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত সান লেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে। বেইজিং সব সময় জাতিসংঘ সনদের নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা আন্তর্জাতিক বিষয়ের সবচেয়ে মৌলিক নিয়ম। শক্তি প্রয়োগ কখনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন কোনও পদক্ষেপ সহ্য করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি বলেছেন, তিনি শোকাহত জাতির পক্ষে কথা বলছেন। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ইরানে অস্থিরতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মিথ্যা ও  বিকৃতি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ছড়িয়ে আন্দোলকে সহিংসতায় দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংবেদনশীল মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রাণহানি এড়াতে সব পক্ষকে যেন কোনও পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here