সিউলে অগ্নিকাণ্ড, নেভাতে লড়ছে কয়েকশ দমকলকর্মী

0
সিউলে অগ্নিকাণ্ড, নেভাতে লড়ছে কয়েকশ দমকলকর্মী

দক্ষিণ সিউলের অভিজাত গ্যাংনাম জেলার এক বস্তিতে লাগা আগুন নেভাতে প্রায় তিনশ দমকলকর্মী প্রাণপণ লড়ছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। 

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে গুরিয়ং বস্তির ৪৭ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সিউল মেট্রপলিটন দমকল ও দুর্যোগ সদরদপ্তরের এক কর্মকর্তা টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

সুবিধাবঞ্চিতদের ওই এলাকায় ১১০ জনের মতো লোক আছেন বলে দমকল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইয়োনহাপ। শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বস্তিটিতে আগুন লাগে। আগুন কাছাকাছি পাহাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে শঙ্কায় কর্তৃপক্ষ পরে অগ্নি-সতর্কতা দ্বিতীয়-সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে।

ঘটনাস্থলের ছবিতে এলাকাটির ওপর কালো ধোঁয়ার স্তর এবং মুখে মাস্ক পরা বয়স্ক বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে। ওই এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে বাস করছেন ৬৯ বছর বয়সী কিম ওক-ইম। তিনি বলেন, “ঘুমিয়ে ছিলাম, এক প্রতিবেশী আগুনের কথা বলায় আমি দৌড়ে বেরিয়ে আসি এবং দেখি আগুন ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।” 

“কয়েক বছর আগে বন্যা সব ভাসিয়ে নিয়েছিল, বাকিটুকু আগুনে যাবে বলে মনে হচ্ছে,” ঘর ধ্বংস হলে কোথায় থাকবেন সে চিন্তাতেই অধীর এ নারী।

ঘটনাস্থলে ৮৫টি দমকল ট্রাক পাঠানো হয়েছে। তবে ধোঁয়াশা ও শহরজুড়ে থাকা সূক্ষ্ণ ধুলিকণার কারণে কর্মকর্তারা আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার পাঠাতে পারছেন না।

দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তামন্ত্রী ইউন হো-জাং ‘প্রাণ বাঁচাতে ও আগুন নেভাতে সব সদস্য ও সরঞ্জাম মোতায়েনে’ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ইয়োনহাপ।

সিউলের অন্যতম ধনী জেলা গ্যাংনামে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ির ছোট এই গুরিয়ং বস্তিটি অবস্থিত। এখানে ভবিষ্যতে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিউল শহর পরিকল্পনা প্রতিবেদন বলছে, ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে হওয়া নানান সরকারি প্রকল্প, বিশেষ করে এশিয়ান গেমস ও সিউল অলিম্পিকের নির্মাণ কাজের সময় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো অনুমতি ছাড়াই গ্যাংনামের প্রান্তে বসবাস শুরু করলে এই গুরিয়ং বস্তির জন্ম হয়।

তাদের বানানো অস্থায়ী ঘরগুলো একে অপরের গা ঘেঁষে তৈরি; এগুলো বানানোও হয়েছে ভিনাইল শিট, প্লাইউড ও স্টাইরোফোমের মতো অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ দিয়ে। এ কারণে বস্তিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি প্রবল বলেও ২০২৩ সালে এক অগ্নিকাণ্ডের পর দেওয়া মূল্যায়নে বলেছিল দমকল বিভাগ।

কর্তৃপক্ষ এলাকাটির উন্নয়নে কাজ করছে, যে কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা গুরিয়ং ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও ৩৩৬টির মতো পরিবার এখনও আছে বলে গ্যাংনাম জেলার শহর পরিকল্পনা বিভাগ জানিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here