বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের অনড় অবস্থান ও চলমান টানাপোড়েনের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল। বিসিবির শাস্তিমূলক পদক্ষেপেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বোর্ড।
বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কোয়াবের দাবির মুখে নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের গুঞ্জন তৈরি হলেও তিনি বোর্ড পরিচালকের পদ ছাড়েননি। তবে এর মধ্যেই বিসিবি তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। পাশাপাশি তার সব কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
কিন্তু এসব পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়নি কোয়াব। সংগঠনটির একটাই দাবি ছিল, নাজমুল ইসলামকে পরিচালক পদ থেকে সরাতে হবে, নচেৎ আন্দোলন চলবে। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কারণ ছাড়া কোনো পরিচালককে সরানোর সুযোগ না থাকায় বোর্ডের পক্ষে ওই দাবি মানা সম্ভব হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ঢাকা পর্বের প্রথম দিনে কোনো ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। দুপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়রসের ম্যাচ নির্ধারিত সময় পার হলেও মাঠে নামেননি কোনো দলের ক্রিকেটাররা। শেষ পর্যন্ত বিসিবি বিপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক দায়িত্বশীল কর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা নাজমুল ইস্যুতে আরও একটি আলটিমেটাম দিয়েছেন। যদি বিপিএল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ক্রিকেটার, কোচ ও সাপোর্টিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবার পারিশ্রমিক বিসিবিকেই দিতে হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেছেন—এই অচলাবস্থায় বিপিএল বন্ধ হলে তার দায় বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকেই নিতে হবে এবং সব ধরনের পেমেন্ট বোর্ডকেই পরিশোধ করতে হবে।
খেলোয়াড়দের সংগঠন কোয়াব সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, কেবল কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ‘আইওয়াশ’ করলে চলবে না। নাজমুল ইসলামকে পুরোপুরি বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই অংশ নেবেন না ক্রিকেটাররা।
সূত্র: জাগো নিউজ

