ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আলমগীর শেখ (৩৬) নামের জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
তিনি আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থীর তালমা ইউনিয়ন নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক। এ ঘটনায় আহতের ভাই রিয়াদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতু ও বাজারসংলগ্ন এলাকায় ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আলমগীর শেখ কদমতলী গ্রামের মৃত হালিম শেখের ছেলে এবং তালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার সময় আলমগীর শেখ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত প্রায় ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর শেখ সাংবাদিকদের জানান, তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে এই জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী।
আলমগীর দাবি করেন, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কদমতলী সেতুর কাছে স্থানীয় রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ তার পথরোধ করেন এবং তাকে অন্য প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। এ বিষয়ে তিনি অপারগতা জানিয়ে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং জোটের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
এ ঘটনায় আলমগীর শেখের ভাই রিয়াদুল ইসলাম বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আলমগীরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয় সূত্র ও জামায়াত নেতাদের দাবি, অভিযুক্ত রাশেদ মোল্লা ও মিলন শেখ আগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তারা দল পাল্টে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত আলমগীরকে দেখতে যান ফরিদপুর-২ আসনে জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত ব্যক্তির ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হবে।

