সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

0
সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল সরিষার ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। আর এ সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। চাষিরা সরিষা ক্ষেতে বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। এ বছর মধুর দামও ভালো পাবার আশা মৌচাষিদের। অন্যদিকে ক্ষেতে মৌবক্স বসানোর কারণে সরিষার ফলন ভাল হচ্ছে।  

মৌ চাষীদের দাবি সরকারি ভাবে মৌচাষীদের নিয়ে যে নীতিমালা হচ্ছে তাতে কৃষক, কৃষি বিভাগের সাথে চৌচাষীদের সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালীন মৌমাছি বাঁচিয়ে রাখতে চিনি কেনার জন্য ভর্তুকি বা স্বল্প সুদে ঋণ দিল উপকার হবে। কৃষি বিভাগ বলছে চলতি বছর জেলায় ১২ কোটি টাকার মধু উৎপাদনের লক্ষ্যে মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে এখন হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষাক্ষেতে প্রায় দুই শতাধিক মৌচাষী ২৬ হাজারের অধিক আধুনিক মৌ বাক্স স্থাপন করে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক মৌবক্স পরিস্কারসহ মৌমাছির পরিচর্যা করছে। আর লক্ষ লক্ষ মৌ-মাছি প্রতিনিয়ত ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করছে। মৌ চাষিরা প্রতি সপ্তাহে একবার বাক্সগুলো থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছেন।

মৌ শ্রমিক বাহাজ উদ্দিন ও সৌমিক জানান, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মৌ বক্সগুলো চেক করতে হয়। কোন মৌমাছি মারা গেল কিনা বা কোন সমস্যরা হলো কিনা এগুলো চেক করতে হয়। সম্যসা থাকলে সমাধান করে মৌমাছিগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। তারা ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সরিষা চাষী মতিউর রহমান, আব্দুল মান্নান পরী ও আব্দুল হালিম জানান, মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করায় ফুলে পরাগায়ন ঘটানোর ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরিষা চাষে কম খরচ লাভ বেশী। এ কারনে  অনেকে সরিষার চাষে ঝুকে পড়ছে। 
উত্তরবঙ্গ মৌচাষী সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক শিশির কুমার শাহা জানান, সরিষার মধু সবচেয়ে সুস্বাদু। এ বছর ৩৫০ টাকা থেকে ৫ শ টাকা কেজি ধরে গুনগত মানসম্পন্ন সরিষার ফুলের মধু পাইকারীভাবে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও মৌচাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকে এপেশায় নামছে। এ বছর সরিয়ার ফলন ভাল হওয়ায় মধু ভাল সংগ্রহ হবে। এ বছর মধুর দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দাবী সরকারের নীতিমালায় মৌচাষী, কৃষক ও কৃষি বিভাগকে একত্র করে একটি সুন্দর নীতিমালার প্রয়োজন। এছাড়াও বর্ষাকালীন সময়ে মৌচাষীরা সংকট পড়ায় সে সময় চিনির কেনার জন্য ভর্তুকি বা স্বল্প সুদে ঋণ দিলে  মৌচাষীরা ভাল থাকবেন। মৌচাষ এখন সুপারকপ গবেষনার আওতায় নেয়ায় খামারীরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।  

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি জানান, সরিষা চাষ এবং পুষ্টিগুন্ন সম্পন্ন মধু সংগ্রহের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এলোমেলোভাবে সরিষা আবাদ না করাসহ বিষাক্ত কীটনাশক যাতে স্প্রে না করে সে জন্য কৃষকদের পরামর্শ এবং মাঠ পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে। সরিষা আবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা আবাদে যুক্ত হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম মনজুরে মাওলা জানান, বাংলাদেশের মধ্যে সিরাজগঞ্জে সবচেয় বেশি সরিষা চাষ হচ্ছে। মধু সংগ্রহের কারণে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও ৩০-৩৩% ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরে জেলায় প্রায় ৯০ হাজার ৫ শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে আর ৪ লক্ষ ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ১১-১২ কোটি টাকার মধু উৎপাদন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here