শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে কারা?

0
শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে কারা?

ভিসা ছাড়াই বিশ্বভ্রমণের স্বাদ নিতে কার না ভালো লাগে। তবে এই স্বাধীনতা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে হাতের পাসপোর্টটি কতটা শক্তিশালী তার ওপর। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকায় এবারও আধিপত্য বজায় রেখেছে এশিয়ার দেশগুলো। সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিবেচনা করে দেখা গেছে, তালিকার শীর্ষ তিনটি স্থানই দখল করে নিয়েছে এশীয় পরাশক্তিরা।

এ বছরও এককভাবে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি গন্তব্যে কোনো ধরনের আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। যদিও গত বছরের তুলনায় পাকিস্তান বা বলিভিয়ার মতো কিছু দেশে তারা সুবিধা হারিয়েছেন, তবে পাপুয়া নিউগিনিতে নতুন করে ভিসামুক্ত প্রবেশের অধিকার তাদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। সিঙ্গাপুরের ঠিক পরেই যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এশিয়ার এই দুই উন্নত দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। মূলত শক্তিশালী অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতার কারণেই তারা এই ঈর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউরোপের ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত সুবিধা পান। চতুর্থ স্থানে সম্মিলিত শক্তি দেখিয়েছে শেনজেনভুক্ত ১০টি দেশ। তবে এবারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০ বছরের ইতিহাসে নিজেদের সেরা অবস্থানে উঠে এসে দেশটি এখন তালিকার পঞ্চম স্থানে। ২০০৬ সালের পর থেকে তারা ১৪৯টি নতুন গন্তব্য যুক্ত করে ৫৭ ধাপ এগিয়েছে, যা তাদের কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ।

তালিকায় পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সিঙ্গাপুরের পরেই নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে মালয়েশিয়া। ১৮০টি দেশে ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে দেশটি রয়েছে নবম স্থানে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজস্ব ভিসানীতি কঠোর করার প্রভাবে তালিকার কিছুটা নিচের দিকে নেমে গেছে একসময়ের শীর্ষ থাকা যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ১৭৯টি দেশে প্রবেশের সুবিধা নিয়ে দেশটি দশম স্থানে অবস্থান করছে। মূলত শাসনব্যবস্থার দৃঢ়তা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয়েছে ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির মানচিত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here