ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ও কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে দেশটির নাগরিকরা দলে দলে তুরস্কে পাড়ি জমাতে শুরু করেছেন। আজ বুধবার বেশ কয়েক জন ইরানি নাগরিক তাদের মালপত্র নিয়ে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভ্যান প্রদেশের কাপিকোয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন। তবে সীমান্তে আসা এই ব্যক্তিরা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের ওপর ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়া হতে পারে। একটি অধিকার সংস্থা জানিয়েছে, চলমান এই গণ-অসন্তোষ দমনে কর্তৃপক্ষের অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬শ’ মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক বার্তায় বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান থেকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
তেহরানে অবস্থিত মার্কিন ভার্চুয়াল দূতাবাস থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের আকাশপথের পাশাপাশি তুরস্ক বা আর্মেনিয়া দিয়ে স্থলপথে সীমান্ত অতিক্রমের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তুরস্কের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে এখনো কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যদিও তারা সার্বিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অন্যদিকে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ওয়াশিংটন যদি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত করা হবে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই হুঁশিয়ারি বার্তার কথা নিশ্চিত করেছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সূত্র: আল আরাবিয়া

