গাজায় স্থায়ী দখলে প্রকাশ্যে আহ্বান ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের

0
গাজায় স্থায়ী দখলে প্রকাশ্যে আহ্বান ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলের বারবার হামলায় কার্যত তা ‘ভঙ্গুর’ অবস্থায় রয়েছে। এবার গাজা উপত্যকায় স্থায়ী দখলের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত পরিকল্পনাকেও তারা কার্যত অগ্রাহ্য করেছেন, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি বা ভূখণ্ডটি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নাকচ করা হয়েছে। 

ইসরায়েলের ডানপন্থী চ্যানেল ৭-এর প্রতিবেদনের বরাকে খবরে বলা হয়, সোমবার এসব বক্তব্য আসে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট)-এ আয়োজিত ‘গাজা—দ্য ডে আফটার’ শীর্ষক এক সম্মেলনে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন বলেন, গাজায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের বৃহত্তর ভূখণ্ডগত দাবির অংশ। তিনি বলেন, আমাদের গাজায় এবং পুরো ‘ল্যান্ড অব ইসরায়েল’-জুড়ে নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এটি, প্রথম ও প্রধানত, আমাদের দেশ।

একই সম্মেলনে কট্টর ডানপন্থী আইনপ্রণেতা সিমচা রথম্যানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাজার ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব ইসরায়েলের হাতেই থাকা উচিত। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চালানো ইসরায়েলি অভিযানে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ সময়ে আরো ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, আর গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এরপর থেকে অন্তত ৪৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৩৬ জন আহত হয়েছেন। 

এদিকে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে স্বাধীন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে সব ধরনের কর্তৃত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত বলেও নিশ্চিত করেছেন হাজেম কাসেম। তিনি বলেন, সাম্ভাব্য ওই ফিলিস্তিনি প্রশাসন কার্যক্রম যেন সফলভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ এবং গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত। এই ঘোষণাকে গাজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, যুদ্ধক্লান্ত গাজাবাসীর জন্য এটি নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিতও হতে পারে। সূত্র: আনাদোলু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here