আমদানির খবরে কুতুবদিয়ার লবণচাষিদের উদ্বেগ

0
আমদানির খবরে কুতুবদিয়ার লবণচাষিদের উদ্বেগ

বিদেশ থেকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ার প্রান্তিক লবণচাষিরা। 

ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে লবণ চাষ করেছেন তারা। অনেকের লবণ এখনো মাঠে রয়েছে, আবার অনেকেই লবণ বিক্রি করছেন। তাদের আশঙ্কা, দেশীয় লবণশিল্পকে ধ্বংস করতে একটি সিন্ডিকেট লবণ আমদানি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। লবণ আমদানির ফলে, চাষিদের উৎপাদিত লবণ ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে দেশীয় লবণশিল্প। সুতরাং আমদানি নয়, দেশে লবণের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করার দাবি প্রান্তিক চাষিদের। কুতুবদিয়া উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লবণচাষির সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানী তথ্যমতে, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৭৬৮ একর জমিতে লবণের চাষ হয়। এতে চাষিদের উৎপাদিত লবণ ১২ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন মাঠেই রয়েছে। যা বিক্রি করতে পারেননি স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা। এর মধ্যে গত বছরের ৯ হাজার মেট্রিক টন লবণ রয়েছে। এ ছাড়াও বিগত বছরগুলোতে লবণ উৎপাদনে পাঁচ যুগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন করেন এ প্রান্তিক চাষিরা।

উপজেলার নেজাম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মাহামুদুল করিম, সাজ্জাদ হোসেনসহ অনেক প্রান্তিক চাষি বলেন, ন্যায্যমূল্যের আশায় অতীতের চেয়ে বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছি। এতে খরচও আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। এখন যদি সরকার প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে তো মরে যাব। অন্তত প্রান্তিক চাষি ও এ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি করেছেন তারা।

বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রীস আলী জানান, কুতুবদিয়ায় এ পর্যন্ত লবণ মজুত রয়েছে ১২ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চলতি মৌসুমের উৎপাদিত লবণ ৩ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন।

এদিকে, কুতুবদিয়ার অর্থনৈতিক জোগানের চালিকাশক্তি হচ্ছে লবণ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লবণের ঘাটতি দেখিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। ওই ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে সরকার ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়ায় দেড় লাখ দ্বীপবাসীর উদ্বিগ্ন। শুধু প্রান্তিক চাষি নয়, লবণশিল্প ও দ্বীপবাসীকে বাঁচাতে বিদেশি লবণ আমদানি না করার দাবি কুতুবদিয়া দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here