বগুড়ার প্রথম সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করলো টিএমএসএস

0
বগুড়ার প্রথম সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করলো টিএমএসএস

বগুড়ায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে বোন ম্যারো স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করেছে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার। এর মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়।

রংপুর জেলার ভান্ডাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মো মিজানুর রহমানের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে পরিচালনা করেন অধ্যাপক ডা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ। রোগটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এরপর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা গ্রহণ করলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে বিস্তারিত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে তার চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোটারিয়ান ডা মো মতিউর রহমান, হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ এবং অন্যান্য হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

রোটারিয়ান ডা মো মতিউর রহমান বলেন যে বগুড়ার প্রথম সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট শুধু টিএমএসএসের জন্য নয় বরং উত্তরাঞ্চলের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই সাফল্যের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলবাসীর কাছে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

অধ্যাপক ডা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন যে এই অর্জন প্রমাণ করে যথাযথ অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল থাকলে আঞ্চলিক পর্যায়েও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসা নিরাপদ ও সফলভাবে করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও টিএমএসএস এমন আরও সাফল্যের সাক্ষী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা মো জাকির হোসেন বলেন যে এই সাফল্য টিএমএসএসের জন্য যেমন গর্বের তেমনি উত্তরাঞ্চলের সমগ্র স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এর ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবার বার্তা পুরো উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

চিকিৎসা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে রোগী মো মিজানুর রহমান বলেন যে দীর্ঘদিনের চিকিৎসার পর এক সময় তিনি প্রায় হাল ছেড়ে দিলেও চিকিৎসকরা তার জন্য হাল ছাড়েননি। মহান আল্লাহর কৃপায় চিকিৎসকদের যত্ন ও দিকনির্দেশনা এবং টিএমএসএসে সফল ট্রান্সপ্লান্টের কারণে তিনি এখন সুস্থতার পথে এবং দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here