এফ-৩৫’কে টেক্কা দিচ্ছে জে-২০, আকাশ শ্রেষ্ঠত্বে কে এগিয়ে আমেরিকা নাকি চীন?

0
এফ-৩৫'কে টেক্কা দিচ্ছে জে-২০, আকাশ শ্রেষ্ঠত্বে কে এগিয়ে আমেরিকা নাকি চীন?

চীন ও আমেরিকার মধ্যকার আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল চীনের ‘মাইটি ড্রাগন’। ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-২০  এর প্রথম উড্ডয়নের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।

২০১১ সালের এই দিনে চেংদুতে প্রথমবারের মতো ডানা মেলেছিল এই শক্তিশালী বিমানটি। যা আজ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। এক সময় যারা এই বিমানের কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, আজ তারাই জে-২০ এর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ দেখে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে আমেরিকার এফ-২২ র‍্যাপ্টর এবং এফ-৩৫ লাইটনিং-টু বিমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জে-২০ এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

গত দেড় দশকে জে-২০ বিমানটি বহুমুখী বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। শুরুতে রুশ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ দেশীয় ডাব্লিউএস-১৫ ইঞ্জিনে সজ্জিত হচ্ছে। এর ফলে বিমানটি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ‘সুপারক্রুজ’ সক্ষমতা অর্জন করেছে। যা এটিকে শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সাহায্য করে। 

শুধু তাই নয়, গত বছর বেইজিংয়ে বিজয় দিবসের প্যারেডে চীন প্রথমবারের মতো এই বিমানের দুই আসন বিশিষ্ট সংস্করণ ‘জে-২০এস’ জনসমক্ষে আনে। এটি বিশ্বের একমাত্র দুই আসন বিশিষ্ট পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। উন্নত এভিওনিক্স, রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং কয়েকশ মাইল দূর থেকে শত্রু বিমান ধ্বংস করার ক্ষমতা জে-২০-কে দক্ষিণ এশিয়া ও তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের শক্তির অন্যতম স্তম্ভে পরিণত করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের হাতে এখন তিনশ’র বেশি জে-২০ বিমান রয়েছে। বার্ষিক প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি নতুন বিমান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে বেইজিং। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত উৎপাদনের এই হার বজায় থাকলে খুব শীঘ্রই স্টিলথ ফাইটার জেটের সংখ্যার দিক থেকে চীন আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 ভারতের সাথে ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তজনা থেকে শুরু করে তাইওয়ান প্রণালীর মহড়া; সবক্ষেত্রেই জে-২০ এর সরব উপস্থিতি চীনের আকাশপথের আধিপত্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। ১৫ বছর আগের সেই প্রথম উড্ডয়নটি যে চীনের বিমান শিল্পের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা ছিল, আজকের ‘মাইটি ড্রাগন’ তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

সূত্র: ইউরো এশিয়া টাইমস 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here