ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নতুন সংযোজন খোররমশাহর-৪। এটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ১৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বহরের অন্যতম ভারী পেলোডধারী অস্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ভারী ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা ইঙ্গিত দেয় যে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে দূরত্ব বাড়ানোর চেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত হামলার ওপর বেশি জোর দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা গেছে।
খোররমশাহর-৪ একটি তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র। যার ফলে এটি উচ্চ থ্রাস্ট ও দ্রুত গতিতে উৎক্ষেপণ সম্ভব। ইরানি সূত্রের দাবি, এর স্বল্প ফ্লাইট টাইম এবং ম্যানুভারেবল ওয়ারহেড একে ইসরায়েলের অ্যারো বা যুক্তরাষ্ট্র-সরবরাহকৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সিস্টেমের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ করে তুলেছে।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্য এলাকায় পৌঁছানোর পর এটি একসঙ্গে প্রায় ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইসরায়েল লক্ষ্য করে যে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, তাতে খোররমশাহর–৪ ব্যবহৃত হয়েছিল।
এর আগেও ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে ‘সাদিক প্রমিস-১’ এবং ‘সাদিক প্রমিস-২’ অভিযানে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়। ওই সময় ইরান প্রায় ১৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ও আইআরজিসি কমান্ডার আব্বাস নিলফোরুশানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানায় ইউরোনিউজ।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির মতে, খোররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার ‘মুসুদান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি। মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। এটি প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম ওয়ারহেড বহনে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

