পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে ও গোলাগুলিতে অন্তত ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রদেশের অন্য এলাকায় সহিংসতায় কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট সিটিডির দুই সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুটি পৃথক অভিযান চালানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চালানো প্রথম অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হন। অপরদিকে কুররম জেলায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে আরও পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হন।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই ভারত সমর্থিত খারিজি গোষ্ঠীর সদস্য। এর আগে এই গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
আইএসপিআর আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আজম ই ইস্তেহকাম কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে খাইবার জেলার মালাগোরি এলাকায় গোলাগুলিতে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন, একজন আহত হয়েছেন এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খুনাররি বাঁধের কাছে সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দিলে স্থানীয় সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গানশিপ হেলিকপ্টার ও আর্টিলারি ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দুইজন চোখ বাঁধা সন্দেহভাজনকে জনতার সামনে আটক অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় এক সেনা কর্মকর্তা স্থানীয়দের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালাগোরি এলাকায় এটিই প্রথম বড় ধরনের সংঘর্ষ। এই অঞ্চলের ওয়ারসাক বাঁধ এলাকায় চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা রক্ষণাবেক্ষণ ও সেচখাল নির্মাণকাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
অন্যদিকে পেশোয়ারের রেগি থানাধীন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে সিটিডির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সদস্যের নাম সানাউল্লাহ। ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাজাউর জেলার ওয়ার মামুন্দ তহসিলে সাইফুর রহমান নামে আরও এক সিটিডি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
সোর্স: ডন

