পাকিস্তানের অন্দরে এবার পুরোদস্তুর সামরিক ঘাঁটি গড়তে কোমর বেঁধে নেমেছে চীন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে পেশ করা ‘চীনের সামরিক ও নিরাপত্তা উন্নয়ন ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ কেবল পাকিস্তানেই নয়, বরং ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী আরও একাধিক রাষ্ট্রে তাদের সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মরিয়া। এই তালিকায় বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশের নাম থাকায় নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত মালাক্কা প্রণালীর ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প সামুদ্রিক পথ নিরাপদ রাখতেই ড্রাগন এই কৌশল নিয়েছে। বর্তমানে জিবুতিতে চীনের একমাত্র স্থায়ী বিদেশি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, পাকিস্তানসহ আরও ২০টি দেশে নৌ ও বিমানঘাঁটি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
পেন্টাগনের এই রিপোর্ট বলছে, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে ইসলামাবাদকে ইতিমধ্যেই ৪০টি অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানই বিশ্বের প্রথম দেশ যাকে এই উন্নত যুদ্ধবিমান রফতানি করছে চিন। এই জে-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো রাডারের চোখ এড়িয়ে হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা বলয়ের কাছে তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে পাকিস্তানের এই ‘চীন-প্রীতি’ নিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে রয়েছে আমেরিকাও। ঐতিহাসিক ভাবেই ইসলামাবাদকে নিজেদের রণকৌশলগত সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় পাকিস্তানকে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পক্ষে চীনের হাতে জমি তুলে দেওয়া খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, ড্রাগনের প্রতি অতি-আনুগত্যের ফলে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বা আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেউলিয়া প্রায় দেশটির জন্য। যদিও চীন এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, ভারত ও চিনের মধ্যে তিক্ততা বাড়াতেই আমেরিকা এই ধরনের কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার যে ‘মুক্তমালা’ নীতি চিন নিয়েছে, এই পরিকল্পনা তারই একটি বৃহত্তর অংশ। সাউথ ব্লকের তরফে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

