যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যত দিন তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরশীল থাকবে, তত দিন দেশটি যুদ্ধের পথে হাঁটবে বলে মন্তব্য করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গুস্তাভো পেত্রোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই তেল ও কয়লাভিত্তিক। এই দুই জ্বালানি সম্পদের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তিনি বলেন, ‘যত দিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তেল ও কয়লার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে, তত দিন তারা এই সম্পদের জন্য যুদ্ধ খুঁজবে।’
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে না যেত, তাহলে আজকের অনেক যুদ্ধই হতো না। তার মতে, সে ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক হতো আরও গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গেও সম্পর্ক থাকত ভালো।
উল্লেখ্য, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মূলত ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত একটি বৈশ্বিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন।
এই মন্তব্যের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বাকযুদ্ধ হয়েছিল। একপর্যায়ে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকিও দেন এবং পেত্রোর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তবে পরে দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার ফোনালাপ হয়। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
কলম্বিয়া সরকার আশা করছে, এই ফোনালাপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমবে এবং মাদক পাচার রোধে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়বে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো হোয়াইট হাউস সফরে যাবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।

