সিরাজগঞ্জ শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় আরোও এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ জানুয়ারী) ভোরে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শিকারপুর এলাকায় আত্বীয় বাড়িতে পলাতক থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিগুরিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্দি মহল্লায় পানির ট্যাকিংর কাছে একটি ভাড়া বাসায় থাকতো এবং সবুজ কানন স্কুল এন্ড কলেজে ১০ শ্রেণিতে পড়তো।
এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর মধ্যে ৪ জন কিশোর। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছেন। গ্রেফতারদের মধ্যে ৪ জন নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আব্দুর রহমান রিয়াদ (১৮) সিরাজগঞ্জ শহরে সয়াধানগড়া খানপাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি সিরাজগঞ্জ ইসলামীয়া কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শহরের ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের পর শনিবার বিকেলে ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, কলেজছাত্র রিয়াদ ২৮ ডিসেম্বর প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে শহরের (চৌরাস্তা মোড়) বাহিরগোলা রোডে রাস্তার ওপর সিএনজির ভিতরে বসে থাকা অবস্থায় পূর্বশক্রতার জেরে ১০/১২ জন তাকে বারমিচ চাইনিজ টিপ চাকু, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, চাপাতি ও ছুরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়। স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় শিক্ষার্থী রিয়াদকে উদ্ধার করে শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে রিয়াদ মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

