ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার নজিরবিহীন ‘ওরেশনিক’ হাইপারসোনিক মিসাইল হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের রাজনীতি। গত রাতে রাশিয়ার সেনাবাহিনী এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে আঘাত হেনেছে। পোল্যান্ড তথা ন্যাটোর সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মস্কোর পক্ষ থেকে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে কিয়েভ এবং ওয়াশিংটন পুতিনের বাসভবনে কোনো ধরনের হামলার দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি লভিভের জ্বালানি অবকাঠামো এবং একটি ড্রোন উৎপাদন কারখানায় আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই সময়ে রাজধানী কিয়েভে চালানো রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২২ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানিয়েছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে, যা শব্দবেগের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই গতির কারণে প্রচলিত কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি ঠেকানো প্রায় অসম্ভব।
রাশিয়ার এই সামরিক পদক্ষেপকে পশ্চিমাদের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ন্যাটোভুক্ত দেশ পোল্যান্ডের খুব কাছে এমন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হামলাকে ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য এক গভীর হুমকি বলে বর্ণনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও, এই হামলার ফলে সেই প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং পশ্চিমকে আতঙ্কিত করতেই এই ওরেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শন করেছে। যুদ্ধের পঞ্চম বছরে পদার্পণের মুখে এমন হাইপারসোনিক অস্ত্রের ব্যবহার রণক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রার উত্তেজনা যোগ করল।
সূত্র: আল জাজিরা

