ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের কাছে বিক্রি করবেন ট্রাম্প?

0
ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের কাছে বিক্রি করবেন ট্রাম্প?

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক-জ্বালানি সম্পর্কের সমীকরণ নতুন দিকে মোড় নেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সরবরাহের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। 

তবে এই পুরো বাণিজ্য প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সরাসরি ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিশেষ কাঠামোর অধীনে।

মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তিতে ছিল। নয়াদিল্লিকে রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেলের বিকল্প বাজার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে সেই কূটনৈতিক লক্ষ্যই অর্জন করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে বলে দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। এরপর ওয়াশিংটন ও কারাকাসকে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন সরকার এখন ভেনেজুয়েলার তেল বিশ্ববাজারে বিপণনের জন্য প্রস্তুত। তিনি জানিয়েছেন, এই তেল বিক্রির অর্থ সরাসরি কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত হাত বা পূর্বতন শাসকগোষ্ঠীর কাছে যাবে না বরং একটি নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

ভারতের জন্য এই প্রস্তাবটি বড় ধরনের সুযোগ হতে পারে কারণ দেশটির পরিশোধনাগারগুলো ঐতিহাসিকভাবেই ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ভারত আগে ছিল ভেনেজুয়েলার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। 

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর মতে, যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজের জন্য নয় বরং ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর কাছেও এই তেল পৌঁছে দিতে চায়। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে। যারা এই মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে তেল পরিবহনের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলের উৎপাদন স্থিতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন তেল উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here