ইরানজুড়ে বিক্ষোভের আগুন এখন শত শত শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। সমাজের সব স্তরের মানুষ তরুণ থেকে বৃদ্ধ, ধনী থেকে দরিদ্র; সকলেই এখন বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে।
তেহরানের এক তরুণী বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার স্বপ্নগুলো চুরি হয়ে গেছে এবং তিনি চান শাসকরা জানুক যে তাদের মুখে আঘাত করার মতো সাহস এখনও ইরানিদের আছে। মূলত অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব থেকেই এই গণ-অসন্তোষের সূত্রপাত।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে এই সংকটের শুরু হয়। ইরানি মুদ্রার চরম দরপতন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজারের বিক্ষোভ দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যা দমনে কর্তৃপক্ষ শীতের অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। এবারের আন্দোলনে স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই এবং আজাদি স্লোগানের পাশাপাশি একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজতন্ত্রের সমর্থকরা নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। অনেক বিক্ষোভকারী মনে করছেন, বর্তমান শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সরকার ইন্টারনেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় দেশের ভেতরকার প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিশাল জনসমাবেশের দৃশ্য স্পষ্ট। বিশেষ করে পশ্চিম ইরানের শহরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এমনকি শাসনব্যবস্থার সাথে যুক্ত প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরাও এখন গোপনে রাজপথের বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরবর্তী আন্দোলনের তুলনায় এবারের বিক্ষোভে মানুষের মধ্যে শোকের চেয়ে রাগ এবং সংকল্প অনেক বেশি ফুটে উঠছে।
যদিও ইরানের শাসকগোষ্ঠী দাবি করছে, এই পুরো আন্দোলনই বিদেশি ষড়যন্ত্র। তারা এ জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। সেই সাথে সব ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

