বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুতের দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে সাধারণত চেনা হলেও তেলের বাইরেও দেশটির মাটির নিচে রয়েছে বিপুল সম্পদ। খনিজ, প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা ও মূল্যবান ধাতুতে সমৃদ্ধ এই দেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক শক্তিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানায়, তারা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং খনিশিল্প সম্প্রসারণে আগ্রহী।
গত রবিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ভেনেজুয়েলার আছে ইস্পাত, খনিজসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। তার ভাষায়, ভেনেজুয়েলার খনিশিল্পের ইতিহাস সমৃদ্ধ হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। দেশটি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৬০ সালে ইরান, ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাগদাদে ওপেক গঠনে অংশ নেয় ভেনেজুয়েলা।
দেশটির প্রধান তেলভান্ডার পূর্ব ভেনেজুয়েলার অরিনোকো বেল্ট এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেত্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতি ভারী এই তেল উত্তোলন ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়।
একসময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, বিনিয়োগ সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। বর্তমানে চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানিকৃত তেলের ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ গেছে চীনে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের দিক থেকে বিশ্বে ভেনেজুয়েলার অবস্থান নবম। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গ্যাস মজুত প্রায় ৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার, যা দক্ষিণ আমেরিকার মোট গ্যাস মজুতের বড় অংশ।
স্বর্ণসম্পদের দিক থেকেও ভেনেজুয়েলা লাতিন আমেরিকার শীর্ষে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রয়েছে প্রায় ১৬১ দশমিক ২ টন সোনা। সরকারিভাবে স্বীকৃত হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে অন্তত ৬৪৪ টন সোনার মজুত রয়েছে, যদিও প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে রয়েছে কয়লা, লৌহ আকরিক, নিকেল, বক্সাইট, কোলটান ও হীরার বিপুল মজুত। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এসব সম্পদের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
আল-জাজিরা

