বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার খাত দ্রুত বড় হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বর্তমানে এই সক্ষমতা ১০৩ গিগাওয়াট হলেও ২০৩০ সালে তা বেড়ে প্রায় ২০০ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে।
আন্তর্জাতিক সম্পত্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জেএলএল-এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই বড় পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এআই প্রযুক্তি চালাতে সাধারণ ডেটা সেন্টারের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণ ডেটা সেন্টারের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এ কারণে এসব কেন্দ্র ভাড়ার ক্ষেত্রেও বেশি মূল্য পাচ্ছে।
জেএলএল জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে মোট বিনিয়োগ লাগতে পারে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রিয়েল এস্টেট খাতে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ঋণ অর্থায়ন (ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ) হতে পারে প্রায় ৮৭০ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি একে অবকাঠামো খাতে একটি বড় বিনিয়োগ চক্র বলে উল্লেখ করেছে।
উত্তর আমেরিকায় বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ ডেটা সেন্টার নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে প্রায় ১৬ গিগাওয়াট নতুন জায়গা তৈরি হচ্ছে। তবে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে অনেক ক্ষেত্রে চার বছরের বেশি সময় লাগছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পথ খুঁজছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের মোট সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশই ব্যবহৃত হবে এআই কাজের জন্য। বর্তমানে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালে এআই ব্যবহারে একটি বড় পরিবর্তন আসবে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, আমেরিকা অঞ্চল বিশ্বে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার বাজার হিসেবেই থাকবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হবে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায়ও নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

