বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার্স টু ওয়াচ’ তালিকায় বাংলাদেশের রিজান

0
বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার্স টু ওয়াচ’ তালিকায় বাংলাদেশের রিজান

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়া বেশিরভাগ ক্রিকেটারই পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। ২০০০ সালে প্রথম এই স্বীকৃতি পান যুবরাজ সিং। এরপর এইডেন মার্করাম, শুবমান গিল কিংবা নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি টিম সাউদির মতো তারকারা এই মঞ্চ থেকেই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে নজর রাখার মতো কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেই তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান হোসেন।

চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আইসিসির ‘প্লেয়ার্স টু ওয়াচ’ তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের—

আফগানিস্তান – ফয়সাল শিনোজাদা

সবশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে তিন ইনিংসে ১৫৫ রান করে আলোচনায় আসেন ফয়সাল শিনোজাদা। বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও রয়েছে তার নামের পাশে। ২০২৫ সালের শুরুতেও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শতক হাঁকান তিনি। ওপেনার কিংবা তিন নম্বরে—দুই জায়গাতেই সমান দক্ষ এই ডানহাতি ব্যাটার।

অস্ট্রেলিয়া – অলিভার পিক

২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন অলিভার পিক। ইনজুরি কভার হিসেবে দলে ঢুকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক এবং বিগ ব্যাশের চুক্তি পেয়েছেন। এবারের আসরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

বাংলাদেশ – রিজান হোসেন

পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান হোসেন ব্যাট হাতে বেশ নির্ভরযোগ্য। তার স্বপ্ন—বাংলাদেশের হয়ে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের মতো প্রভাবশালী অলরাউন্ডার হওয়া। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে খুব চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স না থাকলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি ফিফটি এবং ইংল্যান্ড সফরে একটি সেঞ্চুরি তার সামর্থ্যের প্রমাণ। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং ও ফার্স্ট চেঞ্জ বোলার হিসেবে দলের বড় ভরসা হবেন রিজান।

ইংল্যান্ড – ফারহান আহমেদ

জাতীয় দলের খেলোয়াড় রেহান আহমেদের ছোট ভাই ফারহান আহমেদ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কাউন্টি ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন। ২০২৪ সালে এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ভাঙেন ডব্লিউ জি গ্রেসের ১৮৬৫ সালের রেকর্ড। এটি তার দ্বিতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, এবার ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

ভারত – বৈভব সূর্যবংশী

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেট দুনিয়ায় বিস্ময় হয়ে উঠেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৩ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ অভিষেকে সেঞ্চুরি, আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হওয়া এবং ৩৫ বলে শতক—সব মিলিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ২৬২ রান করেছেন ১৮২ স্ট্রাইক রেটে।

আয়ারল্যান্ড – অ্যাডাম লেকি

জিম্বাবুয়ে সফরে পাঁচ ইনিংসে ৩২৩ রান করে আয়ারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন ওপেনার অ্যাডাম লেকি। চারটি ফিফটির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেটেও খেলেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড – আরিয়ান মান

উইকেটকিপার-ব্যাটার আরিয়ান মান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই দুটি হাফ-সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন। নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে অভিজ্ঞদের পাশে খেলেই নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তান – সামির মিনহাস

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ইতিহাস গড়েন সামির মিনহাস। পাঁচ ইনিংসে ৪৭১ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা – জরিখ ফন স্কালভিক

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬৪* এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৫ রান করে যুব ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হন জরিখ। এবার লক্ষ্য—দক্ষিণ আফ্রিকার টানা তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়া।

শ্রীলঙ্কা – সেথমিকা সেনেভিরত্নে

ডানহাতি মিডিয়াম পেসার সেথমিকা সেনেভিরত্নে সাম্প্রতিক এশিয়া কাপে ৮ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। বোলিংই তার প্রধান শক্তি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ – জনাথন ফন লাঙ্গে

ক্রিকেটের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন জনাথন ফন লাঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা হবেন অধিনায়ক জশুয়া ডোর্নের সঙ্গে।

জিম্বাবুয়ে – কিয়ান ব্লিগনট

সাবেক তারকা অ্যান্ডি ব্লিগনটের ছেলে কিয়ান ব্লিগনট টপ-অর্ডার ব্যাটার ও লেগ স্পিনার। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি স্বাগতিকদের বড় আশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here