কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ম আনছে চীন। বিভিন্ন চ্যাটবট যেন মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা বা প্রভাব বিস্তার করে কারো ক্ষতি করতে না পারে সেই লক্ষ্যেই কঠোর নিয়ম চালু করছে দেশটি।
চীনের খসড়া নিয়ম অনুসারে, এআইচালিত বিভিন্ন চ্যাটবট মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করতে প্ররোচিত করতে না পারে সেজন্য এসব বটকে সীমিত করার পরিকল্পনা করছে চীন। নথি অনুসারে, চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রস্তাবিত এসব নীতিমালা মূলত সেইসব পরিষেবাকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে, যেগুলোকে ‘মানুষের মতো আলাপ করতে পারে এমন এআই পরিষেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।
এসব নীতিমালা চূড়ান্ত হয়ে গেলে চীনের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সেসব এআই পণ্য বা সেবার ওপর কার্যকর হবে, যেগুলো মানুষের ব্যক্তিত্ব অনুকরণ করে ও টেক্সট, ছবি, অডিও বা ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করে।
এ প্রস্তাবিত খসড়ার ওপর জনমত জানানোর সময়সীমা আগামী ২৫ জানুয়ারি শেষ হবে বলে জানা গেছে। ‘নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল’-এর খণ্ডকালীন অধ্যাপক উইনস্টন মা বলেছেন, বেইজিংয়ের এই পরিকল্পিত নীতিমালা হবে মানুষের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বা মানুষের মতো আচরণ করা এআই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোনো দেশের নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ।
বিভিন্ন চীনা কোম্পানি যখন দ্রুত ‘এআই সঙ্গী’ ও ‘ডিজিটাল তারকা’ তৈরি করে চলেছে ঠিক তখনই এসব নতুন প্রস্তাবনা সামনে আনল চীন। ২০২৩ সালে চীনের জেনারেটিভ এআই সংক্রান্ত নীতিমালার সঙ্গে তুলনা করে উইনস্টন মা বলেছেন, চীনের নতুন এসব প্রস্তাবনা ‘তথ্যের নিরাপত্তা থেকে মানসিক বা আবেগনির্ভর বিষয়ে নিরাপত্তার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ’।
তথ্য সূত্র- সিএনবিসি।

