ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ৪৩৪টি যুদ্ধবিমান ও ৩৪৭টি হেলিকপ্টার হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ জন রুশ সেনা হতাহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ।
শুক্রবার প্রকাশিত জেনারেল স্টাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই রুশ বাহিনীর ৯১০ জন সেনা হতাহত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জামেও রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাশিয়া হারিয়েছে, ১১ হাজার ৪৫৬টি ট্যাংক, ২৩ হাজার ৮০১টি সাঁজোয়া যান, ৭১ হাজার ২৭৪টি যানবাহন ও জ্বালানি ট্যাংক, ৩৫ হাজার ৪৩৫টি আর্টিলারি ব্যবস্থা, ১ হাজার ৫৭৯টি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, ১ হাজার ২৬৩টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৯৪ হাজার ৭৯৭টি ড্রোন, ৪ হাজার ১০৭টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ২৮টি জাহাজ ও নৌযান এবং ২টি সাবমেরিন ধ্বংস করা হয়েছে।
রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ৬ হাজার ৬৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং ৩৩৪টি বসতি দখল করেছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
তবে যুদ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গত বছর রাশিয়া নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৯৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে এবং ২৪৫টি বসতিতে তাদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আইএসডব্লিউ আরও জানায়, নতুন সামরিক কৌশল ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ২০২৫ সালে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি বেড়েছে। পাশাপাশি কুরস্ক ওব্লাস্টে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখল করা প্রায় ৪৭৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে রাশিয়া।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউক্রেনের দখল করা ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস করবে না রাশিয়া। তার দাবি, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে।
সূত্র: রয়ার্টাস

