গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডেনমার্ক। ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক ভাষণে ওয়াশিংটনের এই তৎপরতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপের মুখে তারা নতিস্বীকার করবেন না।
একই সুর শোনা গেছে ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিকের কণ্ঠেও। নববর্ষের ভাষণে তিনি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মমর্যাদার প্রশংসা করার পাশাপাশি উত্তর মেরু অঞ্চলে ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূলত লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই নতুন করে এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত।
প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন তার সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া বক্তৃতায় ওয়াশিংটনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, একটি স্বাধীন জাতি বা ভূখণ্ডকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা কিনে নেওয়ার চেষ্টা করা একটি সেকেলে এবং অগ্রহণযোগ্য মানসিকতা।
তিনি ডেনমার্কের প্রতি আমেরিকার সাম্প্রতিক আচরণকে হুমকি ও অসম্মানজনক হিসেবে অভিহিত করেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেনও এই পদক্ষেপকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এর ব্যাখ্যা চেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন। ড্যানিশ নেতৃত্বের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো সুযোগ নেই এবং এটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছেন। ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, কৌশলগত অবস্থান এবং বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে আমেরিকার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী মনোভাবের প্রেক্ষিতে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করছে।
সংস্থাগুলোর মতে, ওয়াশিংটন এখন তার লক্ষ্য অর্জনে মিত্রদের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস দিচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি

