সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন উসমান খাজা। অ্যাশেজে সিডনি টেস্টই হবে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটারের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পাশে রেখে অবসরের ঘোষণা দিয়ে খাজা বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করতে এসেছি যে এসসিজি টেস্ট ম্যাচের পর আমি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। ঈশ্বর ক্রিকেটের মাধ্যমে আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি আমাকে এমন স্মৃতি দিয়েছেন যা আমি চিরকাল মনে রাখব, এমন বন্ধুত্ব যা খেলার বাইরে গিয়ে প্রভাব ফেলে, এবং এমন শিক্ষা যা আমাকে গড়ে তুলেছে—যে আমি মাঠের বাইরে যেমন আছি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা যেখান থেকে করেছিলেন, সেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডকেই বিদায়লের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন খাজা। সিডনিতে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ৩৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটারের। আবার এই মাঠেই খাজা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার দ্বিতীয় দফা শুরু করেছিলেন ৩৫ বছর বয়সে।
খাজা তার শেষ টেস্টে নামবেন ৮৭টি ম্যাচ খেলে। যেখানে এই ওপেনারের সংগ্রহ ৬২০৬ রান, সেঞ্চুরি ১৬টি, ফিফটির সংখ্যা ২৮। সাদা জার্সিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৩.৩৯ গড়ে রান করা খাজার সর্বোচ্চ ইনিংস ২৩২। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে তার রান ১৫৫৪, সেঞ্চুরি দু’টি ফিফটি ১২।
শেষদিকে অধরাবাহিক খাজা অবসর নিয়ে অনেকদিনই ভাবছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ব্যাটার বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম, পুরোপুরি নয় তবে বেশ কিছুদিন ধরেই।এই সিরিজে আসার সময় আমার মাথায় কাজ করছিল যে সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে আমার শেষ সিরিজ।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে খাজা আরও বলেন, ‘আমি রেচেলের (খাজার স্ত্রী) সাথে এটা নিয়ে বেশ আলোচনা করেছি এবং আমি জানতাম যে এটাই বড় সুযোগ। আমি দরজা একেবারে পুরোপুরি বন্ধ করে দিইনি, কারণ আমি জানতাম যে খেলা চালিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে। এমনকি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, যখন আমি কয়েক দিন আগে তাকে জানালাম তিনি তখনও ভাবছিলেন কীভাবে আমাকে (২০২৭ সালের) ভারত সফর পর্যন্ত দলে রাখা যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে আমি নিজের মতো করে বিদায় নিতে পারছি, কিছুটা মর্যাদা নিয়ে এবং আমার প্রিয় এই এসসিজিতেই শেষ করতে পারছি। তবে আমার মনে হয় এই সিরিজের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। এরপর অ্যাডিলেডে গিয়ে যখন দেখলাম শুরুতে আমি একাদশে নেই, সেটাই সম্ভবত আমার জন্য সংকেত ছিল যে—ঠিক আছে, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’
চলতি সিরিজে পার্থে চোট পেয়ে ব্রিসবেন টেস্ট থেকে বাদ পড়েন খাজা। এরপর অ্যাডিলেডের একাদশ থেকেই ছিটকে পড়েন। তবে স্টিভ স্মিথ অসুস্থ হয়ে বাদ পড়ায় আবার সুযোগ পেয়ে কাজে লাগান। তবে মেলবোর্নে দুই ইনিংসে ২৯ ও ডাক মারায় তাঁর অবসরের দাবি তোলেন সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে।
খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল এটাই যে, আমার মনে হচ্ছিল মানুষ আমাকে আক্রমণ করছে। আমার মনে হচ্ছিল তারা বলছে আমি দলে টিকে থাকার জন্য স্বার্থপরতা করছি। কিন্তু আমি নিজের জন্য দলে থাকছিলাম না।’
আরও আগেই অবসরের চিন্তা মাথায় এসেছিল তার, ‘অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড কার্যত আমাকে বলেছিলেন- না, আমি চাই তুমি থাকো। শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। আমি চাই তুমি খেলা চালিয়ে যাও। আর তাই আমি থেকে গিয়েছিলাম।’
অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ব্রিসবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশ খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন খাজা।

