কানাডার অন্টারিওতে জানুয়ারি থেকে চাকরির বিজ্ঞাপনে নতুন বিধিমালা

0
কানাডার অন্টারিওতে জানুয়ারি থেকে চাকরির বিজ্ঞাপনে নতুন বিধিমালা

নতুন বছরের শুরুতেই অন্টারিও প্রদেশে চাকরির বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন বিধিমালার আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

এমপ্লয়মেন্ট স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট-এর আওতায় আনা এসব পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে ২৫ জনের বেশি কর্মী রয়েছে-এমন সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী- প্রতিটি প্রকাশ্য চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন বা পারিশ্রমিকের তথ্য দিতে হবে। যদি বেতনের পরিসর (স্যালারি রেঞ্জ) দেওয়া হয়, তাহলে সেটি বার্ষিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

কোনো চাকরির বিজ্ঞাপনে ‘কানাডিয়ান কাজের অভিজ্ঞতা’ চাওয়া যাবে না। শেষ সাক্ষাৎকারের ৪৫ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের জানাতে হবে নিয়োগ সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না

কানাডাজুড়ে কাজ করা রিক্রুটমেন্ট প্রতিষ্ঠান অল্টিস রিক্রুটমেন্ট–এর মালিক ক্যাথরিন ট্রেম্বলে সরকারকে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশংসা করলেও এই পরিবর্তনের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি বেতন স্বচ্ছতার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এতে সত্যিই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”

তার মতে, ৫০ হাজার ডলারের বিস্তৃত বেতন পরিসর চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং তথ্যের বাস্তব মূল্য কমিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারের তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক হলেও, এতে পক্ষপাতের ঝুঁকি কমবে কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রেম্বলে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ নিয়োগকর্তাই বলবেন-এআই শুধু প্রাথমিক বাছাই করে, পরে মানুষই সাক্ষাৎকার নেয়। এতে প্রার্থীদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হবে না।”

অন্টারিওতে বেকারত্ব বাড়তে থাকায় নতুন এই নিয়মগুলো নিয়োগকর্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন ট্রেম্বলে। তিনি বলেন, “আমি দেখছি, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন হিমশিম খাচ্ছে এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে। এমন এক সময়ে এটি আসছে, যখন ব্যবসাগুলোর মনোযোগ থাকা উচিত রাজস্ব বাড়ানো ও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে।”

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ২০২৩ সালে একই ধরনের বেতন স্বচ্ছতা আইন চালু করা হয়। সেখানে লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য মাত্র ২ শতাংশ কমেছে, যাকে সরকার ‘মধ্যম মাত্রার সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্টারিওর নতুন আইনও একই ধরনের সীমিত সুফল বয়ে আনবে কি না- তা নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here