মিয়ানমারে প্রথম ধাপে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে: জান্তা সরকার

0
মিয়ানমারে প্রথম ধাপে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে: জান্তা সরকার

গৃহযুদ্ধের মুখে মিয়ানমারের চলমান তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনের প্রথম পর্বে ভোটার উপস্থিতি ৫২ শতাংশের বেশি ছিল বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার। যা গত নির্বাচনের অংশগ্রহণের হারের তুলনায় অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেছে তারা।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি হচ্ছে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই। আর ভোটার উপস্থিতির হার আগের দুই সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে ১০২টি টাউনশিপে ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৫২ দশমিক ১৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জাও মিন তুন বলেন, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও অনেক সময় ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশ ছাড়ায় না এবং এই হারকে তিনি গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ১ কোটি ১৬ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে ৫২ শতাংশ অর্থাৎ ষাট লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন। এটি দেশ ও জনগণের জয় বলে অভিহিত করেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ২০১৫ ও ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

এই নির্বাচনটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় ভোট। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা।

তবে জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং ভোট নিয়ে সমালোচনা করা আইনত নিষিদ্ধ।

নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। এই দুই দফায় মিয়ানমারের ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, জান্তার সব এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স জানিয়েছে, জান্তার নির্ধারিত নির্বাচনি আইনে ন্যূনতম ভোটার উপস্থিতির কোনো শর্ত নেই।

মিয়ানমারের প্রভাবশালী সামরিক-পন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এই সপ্তাহে প্রথম ধাপে বিপুল জয়ের দাবি করেছে, অন্যদিকে জান্তা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সপ্তাহান্তে ভোটকেন্দ্র এবং সরকারি ভবনে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে।

এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি এখনও আটক রয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিপুল বিজয় অর্জন করলেও সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here