দুর্নীতি মামলায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত

0
দুর্নীতি মামলায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত

রাষ্ট্রীয় তহবিল কেলেঙ্কারির মামলায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। এটি বহু বিলিয়ন ডলারের আলোচিত ১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (১এমডিবি) কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত তার দ্বিতীয় বড় বিচারিক রায়।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে দেওয়া রায়ে আদালত নাজিব রাজাককে চারটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২১টি অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন। তবে এ মামলায় তার শাস্তি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

৭২ বছর বয়সী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম তহবিল ১এমডিবি থেকে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ৫৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ ২০১৩ সালে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছিল বলে মামলায় উঠে আসে।

এর আগে ১এমডিবি সংশ্লিষ্ট আরেক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে নাজিব রাজাক ২০২২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলায় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও গত বছর তার সাজা অর্ধেকে কমানো হয়। চলতি সপ্তাহের সোমবার আদালত তার গৃহবন্দি হয়ে সাজা ভোগের আবেদনও খারিজ করে দেয়।

এই রায় আসতে সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতে ৭৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রায়ের দিন আদালতের বাইরে নাজিবের সমর্থনে কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হন। তার সমর্থকদের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

বিশ্বজুড়ে আলোচিত ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে তদন্তকারীরা ধারণা করেন, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাবে পাচার করা হয়েছে, যার একটি অংশ নাজিব রাজাকের হিসাবেও গেছে।

নাজিবের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি তার উপদেষ্টাদের বিশেষ করে বিতর্কিত অর্থনীতিবিদ জো লোর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। জো লো এখনো পলাতক রয়েছেন।

এদিকে দুর্নীতি মামলায় নাজিবের স্ত্রী রোসমাহ মনসুর ২০২২ সালে ঘুষ নেওয়ার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে আপিলের কারণে তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

১এমডিবি কেলেঙ্কারি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এর জেরে ২০১৮ সালে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারায় নাজিবের নেতৃত্বাধীন বারিসান ন্যাশনাল জোট, যারা ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দেশ শাসন করে আসছিল।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সব রাজনৈতিক পক্ষকে আদালতের রায় সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক আইনপ্রণেতা টনি পুয়া বলেছেন, এই রায় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। প্রধানমন্ত্রী হলেও দুর্নীতির দায় এড়ানো যায় না।

তবে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, এত বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার পরও মালয়েশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here