সেনারা বিগড়ে গেছে, বিপদে নেতানিয়াহু

0
সেনারা বিগড়ে গেছে, বিপদে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং তেল আবিব সরকারের মধ্যে ‘আস্থার সংকট’ চরম আকার ধারণ করায় শত শত রিজার্ভ সেনা গাজা দখলের আসন্ন অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে গাজা সিটি দখলের জন্য পরিকল্পিত অভিযানে পর্যাপ্ত রিজার্ভ সেনা সংগ্রহ করতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে বলে একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সামরিক বাহিনীর পাঠানো প্রায় ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনার তলবের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে এবং গাজা সিটি দখলের অভিযানের আগে হাজার হাজার সেনার নিজ নিজ ঘাঁটিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্লান্তি, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের জীবন নিয়ে উদ্বেগ এবং নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কারণে খুব কম সংখ্যক সেনা উপস্থিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দখলদার বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ রিজার্ভ সেনা ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে শত শত দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তাদের অতিরিক্ত তিন মাস কাজ করতে বলা হয়েছে, যা যুদ্ধের পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও এক মাস বাড়ানো হতে পারে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, শত শত ইসরায়েলি সেনা গাজায় নতুন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন এবং চাকরিতে যোগ না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এক রিজার্ভ সেনা হারেৎজকে বলেন, “এবারের ডিউটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন। হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের জীবন নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকেই দ্বিধায় ভুগছেন। তারা আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্যগুলোতে তাদের কোনো বিশ্বাস নেই।

ইসরায়েলি সংবাদপত্রের উদ্ধৃত সিনিয়র কর্মকর্তারাও বলেছেন যে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি আস্থার সংকট চলছে, যা দখলদার সেনাবাহিনীকে প্রভাবিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ কমান্ডারদের সৈন্যদের সাথে আলোচনা করার এবং তাদের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিজার্ভ সেনা বলেন, আমরা কথা বলি এবং আমাদের মতামত জানাই, কিন্তু কোনো উত্তর আসে না। আগের কোনো অভিযানে এমন অনুভূতি আমার মনে পড়ে না। কমান্ডারদের সাথে কথা বলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, আমরা এমন এক যুদ্ধে যাচ্ছি যা সেনাবাহিনী নিজেও চায় না।

তিনি আরও বলেন, গাজায় ২৮০ দিন যুদ্ধ করার পর কেউ আমাকে কোনো রূপকথার গল্প শোনাতে পারবে না। আমি দুর্ভাগ্যবশত গাজাকে চিনি। গাজা দখলের সাথে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আমরা প্রত্যেকেই বুঝি।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির গাজায় জিম্মিদের জন্য এই অভিযানের বিপদ সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে চাপ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। প্রায় ৩৫০ জন রিজার্ভ সেনা একটি যৌথ বিবৃতিতে দখলদার সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, গাজা চূড়ান্তভাবে দখল করার সিদ্ধান্তটি স্পষ্টতই অবৈধ এবং এটি জিম্মি, সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আমাদের যদি রিজার্ভ ডিউটিতে ডাকা হয়, আমরা রিপোর্ট করব না।

শুরু থেকে ৪০০ দিন লড়াই করা আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমান্ডার বলেছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বিনা কারণে প্রাণ দিচ্ছে এবং নেতানিয়াহু কেবল নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছেন।

সূত্র: প্রেস টিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here