গ্লোবাল সুপার লিগ: রূপকথা লিখে ফাইনালে রংপুর

0
গ্লোবাল সুপার লিগ: রূপকথা লিখে ফাইনালে রংপুর

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বুধবারের সন্ধ্যায় লেখা হলো রূপকথার। গ্লোবাল সুপার লিগের প্রথম ফাইনালিস্ট হিসেবে নাম লেখাল সোহানদের রংপুর রাইডার্স। শক্তিশালী দুবাই ক্যাপিটালসকে ৮ রানে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলটি।

দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন নুরুল হাসান সোহান। শেষ ওভারে টানা দুটি ছক্কায় ইনিংসের গতিপথ বদলে দেন তিনি, খেলেন ১৮ বলে ৩৪ রানের মূল্যবান এক ইনিংস। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত ৫৪ রানের জুটি গড়া পাকিস্তানি ব্যাটার ইফতিখার আহমেদও রাখেন দারুণ অবদান, ৩২ বলে করেন ৪১ রান।

দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৫৮। এই রানই যেন হয়ে ওঠে পাহাড় সমান।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা দুবাই ক্যাপিটালসের শুরুটা ছিল প্রতিশ্রুতিশীল। আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ আতাল খেলেন ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংস। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যদিকে উইকেটের পতন মিছিল থামেনি।

ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় সাইফ হাসানের অফ স্পিন। ব্যাট হাতে সুযোগ না পেলেও বল হাতে বাজিমাত করেন তিনি। ৩ ওভারে মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভেঙে দেন দুবাইয়ের মাঝের সারির মেরুদণ্ড। তার বলেই স্টাম্পড হয়ে ফেরেন বিপক্ষের সেরা তারকা সাকিব আল হাসান, যিনি ব্যাট হাতে করেছিলেন মাত্র ৩ রান।

টুর্নামেন্টের শুরুটা দারুণ হলেও পরপর তিন হারে ছিটকে গেল সাকিবদের দুবাই ক্যাপিটালস। প্রথম ম্যাচে ৫৮ রান ও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন সাকিব, তবে পরবর্তী তিন ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। হোবার্ট ও গায়ানার বিপক্ষে ব্যর্থতার পর রংপুরের বিপক্ষেও ছিলেন অনুজ্জ্বল—৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট, ব্যাট হাতে ৭ বলে ৩।

এদিকে রুংপুর রাইডার্স যেন দল হিসেবেই উড়ছে। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ জিতে ফাইনালে পা রাখল তারাই প্রথম। বোলিংয়ে আবারো আলো ছড়ান সৈয়দ খালেদ আহমেদ। আগের দুই ম্যাচে ৪টি করে উইকেট পাওয়া খালেদ এবারও ছিলেন দুর্দান্ত—৩.২ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

শেষ দিকে আফগান স্পিনার কাইস আহমাদ যখন আজমাতউল্লাহ ওমারজাইকে নিয়ে নাটকীয়তা তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তখনই মাঠে নামেন খালেদ। ড্রেকসকে ফিরিয়ে রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন এই পেসার।

ম্যাচ শেষে রংপুর শিবিরে উচ্ছ্বাস, হাসি আর আত্মবিশ্বাস। প্রাথমিক পর্বে এখনও একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও সেই ম্যাচের ফলের ওপর আর কিছু নির্ভর করছে না। সোহানদের দল এখন ফাইনালের অপেক্ষায়। যেখানে ট্রফির লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে অন্য সেমিফাইনাল জয়ীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here