জাপানের মানুষের প্রিয় প্রাণী হাসিমুখের কালো-সাদা দৈত্য পান্ডা। সেই পান্ডাকে ঘিরে আনন্দ, ভিড় আর আবেগের যে দীর্ঘ ইতিহাস, তাতে এবার এক দীর্ঘ অধ্যায়ের পর্দা নামতে যাচ্ছে। প্রায় ৫৩ বছর পর প্রথমবারের মতো পান্ডাশূন্য হতে চলেছে জাপান।
টোকিওর ঐতিহ্যবাহী উয়েনো চিড়িয়াখানার জনপ্রিয় যমজ পান্ডা শাও শাও ও লেই লেই নিজ দেশ চীনে ফিরে যাচ্ছে। রবিবার টোকিও মহানগর সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২১ সালে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া এই যমজ পান্ডা খুব অল্প সময়েই জাপানের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। তবে জন্ম ও লালন-পালন জাপানে হলেও তারা চীনের সঙ্গে করা ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী চার বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
টোকিও মহানগর কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ ছিল পান্ডা দুটির জনসাধারণের জন্য শেষ প্রদর্শনের দিন। এরপরই তারা চীনের উদ্দেশে রওনা দেবে।
এর আগে পান্ডা যমজের বাবা-মা শিন শিন ও রি রি-কেও ২০১১ সালে প্রজনন গবেষণার জন্য চীন থেকে জাপানে আনা হয়েছিল। সেই মিশন শেষ হওয়ায় গত বছর তাদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে শাও শাও ও লেই লেই ফিরে গেলে জাপানে আর কোনো পান্ডা থাকবে না। যা প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম।
জাপানের মন্ত্রিপরিষদের মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা বলেন,‘পান্ডা জাপানের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসার প্রতীক। পান্ডা কূটনীতির মাধ্যমে জাপান ও চীনের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আমরা আশা করি এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।’
তিনি আরও জানান, জাপানের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ও চিড়িয়াখানা নতুন করে পান্ডা আনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান-চীন সম্পর্কের অবনতি নতুন পান্ডা পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সূত্র: এপি নিউজ

