প্রায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে নিট অভিবাসন (যত মানুষ ঢুকেছে ও বেরিয়েছে, তার পার্থক্য) ঋণাত্মক হয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীর তুলনায় দেশ ছাড়ার সংখ্যা বেশি ছিল। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট অভিবাসন দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১০ হাজার থেকে মাইনাস ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। অর্থাৎ, মোট হিসাব করলে প্রবেশকারীর চেয়ে বেরিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। গবেষকদের ধারণা, নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকলেও ২০২৬ সালেও এই ঋণাত্মক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসীর প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ায় বহিষ্কার এবং স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সংখ্যাও বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে অনেক মানবিক কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে শরণার্থী কর্মসূচির বড় অংশ বন্ধ রাখা হয়, সাময়িক ভিসার সংখ্যাও কমানো হয়। এসব সিদ্ধান্ত অভিবাসন কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরানো হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় খুব বেশি নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ দাবি করেছে, অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বেশিরভাগ বহিষ্কার শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই, সীমান্ত এলাকা থেকে নয়। এই কাজে প্রধান ভূমিকা রেখেছে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি), ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নয়।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসন কমে যাওয়ায় অর্থনীতির কিছু খাতে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল, সেখানে প্রভাব পড়বে। এর ফলে কর্মসংস্থান, জিডিপি এবং ভোক্তা ব্যয় কমতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভোক্তা ব্যয় ৬০ বিলিয়ন থেকে ১১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

